অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: খরচ, ভিসা ও বৃত্তির তথ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য এখন অস্ট্রিয়া। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবেশ, তুলনামূলক কম খরচ এবং ইংরেজি মাধ্যমে বিভিন্ন কোর্সে পড়ার সুযোগ থাকায় দেশটি দিন দিন বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শেনজেনভুক্ত দেশ হওয়ায় অস্ট্রিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশ ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও তৈরি হয়।
কেন অস্ট্রিয়ায় পড়বেন?
অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং বৈশ্বিক স্বীকৃতির জন্য পরিচিত। বিশেষ করে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও স্থিতিশীল জীবনযাত্রা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দেয়।
জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়
অস্ট্রিয়ার উল্লেখযোগ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা
- টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা
- ইউনিভার্সিটি অব ইনসব্রুক
- ইউনিভার্সিটি অব গ্রাজ
- গ্রাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি
- ইউনিভার্সিটি অব ক্লাগেনফুর্ট
- ইউনিভার্সিটি অব সালজবুর্গ
- জোহানেস কেপলার ইউনিভার্সিটি লিনৎস
- ইউনিভার্সিটি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস
- ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস
এ ছাড়া দেশটিতে মেডিকেল, আর্টস ও বিভিন্ন বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ
অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবসা, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশ ও জীবনবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, ভাষা ও মানবিকসহ নানা বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, মিডিয়া, ডিজাইন ও পেশাভিত্তিক বিভিন্ন কোর্সও পরিচালিত হয়।
ভর্তির যোগ্যতা
ব্যাচেলর: উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে জার্মান ভাষার দক্ষতার প্রমাণও লাগতে পারে।
মাস্টার্স: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে ১৮০ ইসিটিএস বা ছয় সেমিস্টারের ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে।
পিএইচডি: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হয়।
ভাষাগত দক্ষতা
অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ কোর্স জার্মান ভাষায় পরিচালিত হয়। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত প্রোগ্রামগুলোর জন্য আইইএলটিএস, টোয়েফল বা সমমানের ভাষা পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত দুটি সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়—
উইন্টার সেমিস্টার: সেপ্টেম্বর থেকে
সামার সেমিস্টার: ফেব্রুয়ারি থেকে
আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন করে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত নথি, পরিচয়পত্র, ভাষা দক্ষতার সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে লিখিত পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার বা ভর্তি পরীক্ষাও নেওয়া হয়।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বৈধ পাসপোর্ট
- শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র
- ভাষা দক্ষতার সনদ
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- প্রয়োজন হলে পেশাগত অভিজ্ঞতার প্রমাণ
- ইংরেজি বা জার্মান অনুবাদ করা শিক্ষাগত নথি (যদি প্রয়োজন হয়)
টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ
অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের প্রতি সেমিস্টারে সাধারণত ৭৫১.৯২ ইউরো টিউশন ফি দিতে হয়। বছরে এ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০৩.৮৪ ইউরো।
একজন শিক্ষার্থীর গড় মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ১,৩০০ ইউরো। এর মধ্যে আবাসনে ৪৫০-৭০০ ইউরো, খাবারে প্রায় ৩০০ ইউরো এবং অন্যান্য খাতে প্রায় ৫০০ ইউরো ব্যয় হতে পারে। বড় শহর ভিয়েনায় খরচ তুলনামূলক বেশি।
স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট
ছয় মাসের বেশি সময় অস্ট্রিয়ায় অবস্থানের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়। সাধারণত নিজ দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অস্ট্রিয়ান দূতাবাসে আবেদন করতে হয়। অনুমোদনের পর প্রয়োজন হলে ভিসা-ডি নিয়ে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করা যায়। দেশটিতে পৌঁছানোর তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হয়।
বৃত্তির সুযোগ
অস্ট্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
- আর্নস্ট মাক গ্রান্ট ওয়ার্ল্ডওয়াইড
- ইরাসমাস মুন্ডাস
- ওইএডি স্কলারশিপ
- ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা স্কলারশিপ
- জয়েন্ট জাপান–বিশ্বব্যাংক স্কলারশিপ
- অস্ট্রিয়ান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন স্কলারশিপ
- হেলমুট ভিথ স্টাইপেন্ড (নারী শিক্ষার্থীদের জন্য)
এসব বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা, ভ্রমণ ব্যয়সহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।
পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। পড়াশোনা শেষে চাকরির অফার পেলে বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ও রেড-হোয়াইট-রেড কার্ড নিয়ে দেশটিতে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা, বৃত্তি এবং ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এনে দেয়। সঠিক পরিকল্পনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং সময়মতো আবেদন করতে পারলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও দেশটি হতে পারে উচ্চশিক্ষার একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য।
