সিলেটের ট্রিপল মার্ডার
প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারে ৩ দিনের আল্টিমেটাম
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ফাইল ছবি
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মহানগরীর শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গণে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহত দম্পতির কন্যারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের মা-বাবাসহ তিন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ আহমদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত দম্পতির কন্যা তাহমিনা সাত্তার এনি ও সেলিনা সুলতানা শিখাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: নারীর সঙ্গে বিএনপি নেতার হোটেলে ‘রাতযাপন’, ছবি ভাইরাল
হত্যার কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে প্রশ্ন
মানববন্ধনে নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ১২ আগস্ট রায়নগরের মিতালী এলাকায় অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজন মানুষকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিলেটবাসীর পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হত্যার কারণ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনার দিন প্রেমের সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে খারাপ ব্যবহারের কারণে হত্যার কথা বলা হয়। সর্বশেষ চুরির টাকা কিংবা বাসাভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—এমন বক্তব্য সামনে এসেছে।
একের পর এক ভিন্ন বক্তব্য আসায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে বলে জানান নিহতদের স্বজনরা।
‘নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন’
নিহতদের কন্যারা বলেন, তারা কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি কিংবা সাজা দেওয়ার পক্ষে নন। তারা চান, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।
তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা প্রকৃতপক্ষে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিন সপ্তাহেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বক্তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে হেলাল চৌধুরী বলেন, তিনজন মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে জায়গা-সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানান। হেলাল চৌধুরী বলেন, “প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রংপুরের একটি ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হলেও সিলেটের মতো একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। এতে নিহত পরিবারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বক্তারা আবারও বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির শাস্তি নয়—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
