সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে গুলিতে সোহাগ মিয়া নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগের পরিবারের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবির বক্তব্যে পরে পরিবর্তন এসেছে।
হবিগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান প্রথমে জানিয়েছিলেন, বিএসএফ গরু চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে গুলি চালালে সোহাগ নিহত হন। পরে তিনি জানান, চোরাকারবারিদের নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির সময় সোহাগ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
আরও পড়ুন: ডিএমপিতে বড় রদবদল
সোহাগ চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে।
বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চিমটিবিল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতীয় অংশে ঘটনাটি ঘটে। নিহতের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিমটিবিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে সীমান্তে মাটিতে একজনের পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পোশাক দেখে স্থানীয়দের ধারণা হয়, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশি।
আরও পড়ুন: এনবিআরে বড় রদবদল
পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ দেখে সোহাগ মিয়াকে শনাক্ত করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ৩টার পর চুনারুঘাট থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সোহাগের সুরতহাল সম্পন্ন করে।
নিহতের চাচা আবদুল কাদিরের দাবি, সোহাগ সীমান্তে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে বিএসএফ তাকে গরু চোরাকারবারি সন্দেহ করে গুলি চালায়।
তবে বিকেলে বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ঘটনার শুরুতে তারা ধারণা করেছিলেন, বিএসএফের গুলিতেই সোহাগের মৃত্যু হয়েছে। পরে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, তাদের গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়নি।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার বিভাগে বড় রদবদল, ২৭ জেলায় নতুন উপ-পরিচালক
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সোহাগসহ কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরে চোরাকারবারিদের গুলিতে সোহাগ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
ঘটনার সময় সোহাগের সঙ্গে তার এক ভাইও ছিলেন বলে জানান তিনি। ওই ভাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে পুলিশ ও বিজিবিকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
