কোক স্টুডিওর শুটিং নিয়ে বিতর্ক
সর্দার বাড়ির অনুমতি নিয়ে দুই কর্মকর্তার দুই বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কোক স্টুডিও বাংলার বহুল আলোচিত ও ভাইরাল গান ‘পাতার বাঁশরি’র শুটিং ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের ঐতিহাসিক সর্দার বাড়িতে শুটিংয়ের অনুমোদন, স্থাপনা ব্যবহারের নিয়ম এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
একই বিষয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা। একজন কর্মকর্তা বলছেন, ঐতিহাসিক স্থাপনায় এ ধরনের শুটিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা দাবি করছেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং নিয়ম মেনেই শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সর্দার বাড়ি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়া, ভাড়া প্রদান, আর্থিক লেনদেন এবং স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
গত ২৯ আগস্ট শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক সর্দার বাড়ি রক্ষা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কোক স্টুডিও বাংলার সিজন-৪-এর ‘পাতার বাঁশরি’ গানের শুটিংয়ের জন্য ঐতিহাসিক সর্দার বাড়ি ব্যবহার করা হয়। শুটিংয়ের প্রয়োজনে ভবনের ভেতর ও আশপাশে বিভিন্ন অস্থায়ী সেট নির্মাণ করা হয়, যার ফলে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও সংরক্ষণ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কনজারভেশন কর্মকর্তা ও ডেপুটি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসিব ইসলাম অভি ভোরের কাগজকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। সেটা অবশ্যই ভায়োলেট করা হয়েছে।
শুটিংয়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে থেকেই টুকটাক ভাঙা ছিল। তবে এবার শুটিংয়ের সময়ও কিছু ক্ষতি হয়েছে। একেবারে যে হয়নি তা নয়। আবার যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে, অতটাও ক্ষতি হয়নি। তিনি জানান, শুটিং শেষে সেট খুলে নেওয়ার সময় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ভোরের কাগজকে জানান, সর্দার বাড়িতে শুটিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এর আগেও ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় ‘ইত্যাদি’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে। তখন তৎকালীন পরিচালক অনুমতি দিয়েছিলেন। এবারও একই প্রক্রিয়ায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তবে যেহেতু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই আগামীতে কেউ অনুমতি চাইলে আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। তারা সিদ্ধান্ত দিলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো।
সর্দার বাড়ি ব্যবহারের জন্য কত টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, কোক স্টুডিও বাংলার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোক স্টুডিওর গানের ভিউয়ার্স অনেক বেশি। আবার লোকেশনেও জায়গাটির নাম উল্লেখ থাকে। সে কারণেই মূলত অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রতি পাঁচ বছর পর পর এটি মেইনটেনেন্স করা হয়।
সর্দার বাড়িতে কোক স্টুডিও বাংলার ‘পাতার বাঁশরি’ গানের শুটিংয়ের অনুমোদন এবং স্থাপনা ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে এখন দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। এক কর্মকর্তা যেখানে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন এবং নিয়ম লঙ্ঘনের কথা বলছেন, অন্য কর্মকর্তা বলছেন মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং নিয়ম মেনেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তাই ঐতিহাসিক সর্দার বাড়ি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়া, শুটিংয়ের শর্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
