‘হুজুররা হাসনাতের বেলায় চেতছে, বিএনপির বেলায় চুপ’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ফাইল ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে আলেমদের প্রতিক্রিয়ার তুলনা করেছেন ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী। তার দাবি, হাসনাতের সঙ্গে আলেমদের সম্পর্ক এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার কারণেই তার বক্তব্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমরা বেশি কষ্ট পেয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মাদানী।
পোস্টে তিনি লেখেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা কিংবা অন্য কেউ একই ধরনের বক্তব্য দিলে আলেমরা এতটা প্রতিক্রিয়া দেখাতেন না, কিন্তু হাসনাতের ক্ষেত্রে কেন এতটা ক্ষোভ? এর মাধ্যমে আলেমদের আন্দোলনকে ‘ফান্ডিং আন্দোলন’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর জবাবে মাদানী প্রশ্ন করেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের আহ্বানে কোনো মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহবাগে গিয়েছিল কি না। একইভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে কার আহ্বানে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন: সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে নিজের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে মাদানী বলেন, একসময় হাসনাত তাকে ফোন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। হাসনাত তার ফোন নম্বর কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা তিনি জানতেন না বলে উল্লেখ করেন।
পরে সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে শাহবাগে অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে দেখতে পান বলে জানান মাদানী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসনাতের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে আয়োজিত একটি মাহফিলেও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানের বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করে মাদানী বলেন, তাদের তিনি ‘বাইরের এজেন্ট’ মনে করেন। তার ভাষ্য, তারা আহ্বান জানালেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের ডাকে কোথাও যাবে না। তাদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে কখনো প্রতিবাদ করেন, আবার কখনো করেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাদানীর দাবি, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলাম মাদ্রাসা বা মসজিদে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মানুষ মনে করেন এবং সম্মান ও ভালোবাসা দেখান। ফলে সেই ব্যক্তিরা সংসদের মতো জায়গায় ‘না জেনে, না শুনে’ কোনো বক্তব্য দিলে আলেমদের কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব
মাদানীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে থাকা ‘শাহবাগী মার্কা কথা বলা’ ব্যক্তিদের বক্তব্যে আলেমদের তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না, কারণ তাদের অবস্থান আগে থেকেই ‘চিহ্নিত’। তবে যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও ভালোবাসা রয়েছে, তারা এমন কিছু করলে সেটিকে তিনি ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখেন।
পোস্টের শেষ দিকে মাদানী লেখেন, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!’
