চাঁদে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের তৈরি রকেট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মহাকাশে এক বছরের বেশি সময় ভেসে থাকার পর ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হেনেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সংঘটিত এ ঘটনাটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা আগেই ধারণা করেছিলেন, রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বেগে, অর্থাৎ শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করতে পারে। সংঘর্ষের সময় বিপুল শক্তি উৎপন্ন হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তারা জানিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আঘাতে প্রায় তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ শক্তি সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধুলা ও পাথরের টুকরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দৃশ্যমান আলোর ঝলক বা বিস্ফোরণের চিহ্ন শনাক্ত করতে পারেননি। ঘটনাটি নিশ্চিত করতে আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সংঘর্ষের কারণে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নাসার লুনার রিকনেসাঁ অরবিটার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষস্থলের ছবি সংগ্রহ করবে।
ফ্যালকন-৯ রকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চাঁদে দুটি লুনার ল্যান্ডার পাঠানোর মিশনে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটের কোনো অংশেরই চাঁদে পতিত হওয়ার কথা ছিল না।
মিশন শেষে রকেটের নিচের ধাপটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এলেও ল্যান্ডারগুলোকে চাঁদের পথে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত ওপরের ধাপটি মহাকাশেই থেকে যায়। পরে সৌর কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়।
নাসার বিজ্ঞানবিষয়ক পরিচালক এবং স্পেসএক্সের ড্রাগন কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়ানা শেইমান জানান, বিভিন্ন মহাকর্ষীয় প্রভাব ও সৌর কার্যকলাপের সম্মিলিত ফলেই রকেটের অংশটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের দিকে অগ্রসর হয়।
এদিকে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রাকপ্রকাশিত এক গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়্যার্ড জানিয়েছে, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের মেঘ প্রায় ১১৪ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
নাসা জানিয়েছে, এ ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে মহাকাশযান ও রকেটের গতিপথ আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে সংঘর্ষস্থল বিশ্লেষণ করা হবে।
