×

টিপস

তীব্র গরমে রোদ থেকে বাঁচবেন যে উপায়ে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

তীব্র গরমে রোদ থেকে বাঁচবেন যে উপায়ে

ছবি : সংগৃহীত

এই তীব্র গরমে বাইরে বের হওয়া যেন এক ধরনের যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়া। প্রখর সূর্যের তাপ, অতিবেগুনি রশ্মি, ধুলাবালি এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে শরীর ও ত্বকের ওপর পড়ে ভয়াবহ চাপ। তাই শুধু ইচ্ছা নয়, প্রয়োজন সচেতন প্রস্তুতি এবং সঠিক অভ্যাস। একটু সচেতন হলেই এই কঠিন পরিস্থিতি অনেকটাই সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব। সে কারণে নিতে হবে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা। এ বিষয়ে থাকল বেশ কিছু পরামর্শ।

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

তীব্র গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পর্যাপ্ত পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শুধু সাধারণ পানি নয়, শরীরকে হাইড্রেট রাখতে ডাবের পানি, তাজা ফলমূল এবং পানি-সমৃদ্ধ সবজি অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে তরমুজ ও শসা শরীরকে দ্রুত সতেজ রাখতে সাহায্য করে এবং গরমের অস্বস্তি কমায়।

এছাড়া কাজের ফাঁকে ফাঁকে অল্প অল্প করে পানি পান করার অভ্যাস করা জরুরি। একবারে অনেক পানি না খেয়ে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করলে শরীর বেশি উপকার পায় এবং সারাদিন সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকা যায়। মনে রাখতে হবে, গরমে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পানি শুধু প্রয়োজন নয়, বরং অত্যাবশ্যক। তাই প্রতিদিনের জীবনে পানি পানকে অগ্রাধিকার দিন এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন।

২. স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ

তীব্র গরমে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় ভারী, তেলযুক্ত ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার শরীরকে ক্লান্ত ও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। তাই খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাজা ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা এবং পেঁপে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে এবং শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। এগুলো হাইড্রেশন বাড়ায় এবং গরমের কারণে হওয়া দুর্বলতা কমায়।

এছাড়া দই এবং লেমনেডের মতো প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। সালাদ ও হালকা খাবার গ্রহণ করলে অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা যায়, যা শরীরকে ভারী করে না এবং স্বাভাবিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার শক্তিশালী ৮ অভ্যাস

৩. হালকা পোশাক পরিধান করুন 

তীব্র গরমের দিনে শরীরকে আরামদায়ক ও স্বস্তিতে রাখতে হালকা পোশাক পরিধান করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময় তুলা ও লিনেনের মতো শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সক্ষম কাপড় বেছে নেওয়া উচিত, কারণ এগুলো সহজেই ত্বকের ঘাম শোষণ করে এবং শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া গাঢ় রঙের পোশাকের পরিবর্তে হালকা রঙের পোশাক পরা বেশি উপযোগী, কারণ হালকা রঙ সূর্যের তাপ কম শোষণ করে এবং তা প্রতিফলিত করে, ফলে শরীর তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে।

নিয়মিত হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করলে শুধু গরমে স্বস্তিই পাওয়া যায় না, বরং দৈনন্দিন কাজকর্মেও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হয়। তাই গরমের সময়ে পোশাক নির্বাচনে সচেতন থাকা সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বাইরে বের হলে ছাতা ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

গরমের তীব্র রোদে বাইরে বের হলে ছাতা ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাতা শরীরকে সরাসরি সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে, ফলে ত্বক ও শরীর তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে, সানস্ক্রিন ত্বকের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাইরে বের হওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগানো প্রয়োজন। 

৫. দুপুরে অপ্রয়োজনে বাহিরে বের না হওয়া 

সাধারণত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ থাকে। এই সময় বাইরে কাজ করা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব এই সময় এড়িয়ে খুব ভোরে বা সন্ধ্যার দিকে কাজ সেরে নেওয়া ভালো, এতে অতিরিক্ত গরম ও অস্বস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

গরমের দিনে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার চেষ্টা করা উচিত। ঘরকে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে ফ্যান বা এসির ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসি দীর্ঘ সময় একটানা ব্যবহার না করে মাঝে মাঝে বন্ধ রাখা ভালো, যাতে ঘরের বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় থাকে। এই ছোট ছোট সতর্কতা মেনে চললে তীব্র গরমের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব এবং শরীরকে রাখা যায় সুস্থ ও স্বস্তিতে।

৬. শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করুন 

তীব্র গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও স্বস্তিতে রাখার একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় হলো ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করা। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সাহায্য করে এবং গরমের অস্বস্তি অনেকটা কমিয়ে আনে। একটি পরিষ্কার তোয়ালে পানিতে ভিজিয়ে হালকা করে চিপে নিন, তারপর তা মুখ, গলা বা হাতের ওপর রেখে দিন। এতে ত্বকের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং শরীরে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়।

ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা কমে এবং শরীর আরো আরামদায়ক থাকে। বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে বা প্রচণ্ড গরমে কাজ করার পর এটি দ্রুত স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। তাই তীব্র গরমে সহজ ও ঘরোয়া উপায়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করা একটি অত্যন্ত উপকারী অভ্যাস।

৭. সবুজ শাক সবজি খাওয়া  

গরমের মৌসুমে সুস্থ ও সতেজ থাকার জন্য সবুজ শাকসবজি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এসব শাকসবজি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পেঁপে, শাক, পালং শাক ও ব্রোকলির মতো সবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস পায়। এগুলো শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে এবং গরমের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এসব শাকসবজি হজম শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে, ফলে গরমে বিভিন্ন অসুস্থতা থেকে শরীর সুরক্ষিত থাকে। তাই গরমের দিনে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

৮. টক জাতীয় ফল বেশি বেশি খাওয়া  

গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে টক জাতীয় ফল খাওয়া খুবই উপকারী। লেবু, আমড়া, কাঁচা পেঁপে এবং কাঁচা আমের মতো ফলগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং গরমের অস্বস্তি কমায়। এই ফলগুলোতে প্রচুর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে শরীর গরমের কারণে সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে না।

এছাড়া টক ফল শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। তাই গরমের দিনে নিয়মিত টক ফলের সালাদ বা জুস গ্রহণ করলে শরীর থাকে সতেজ, হালকা ও প্রাণবন্ত।

৯. প্রতিদিন গোসল করা 

গরমের সময় শরীরকে সতেজ ও আরামদায়ক রাখতে প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করা অত্যন্ত জরুরি। সম্ভব হলে দিনে দুইবার গোসল করাও উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের দিনে। তবে গোসল করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বাইরে থেকে তীব্র রোদে বা গরমে এসে সঙ্গে সঙ্গে গোসল না করাই ভালো। আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে দিন, তারপর গোসল করুন। কারণ হঠাৎ গরম অবস্থা থেকে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে বা অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক সময় ও সতর্কতা মেনে গোসল করলে গরমে শরীর থাকবে সতেজ ও সুস্থ।

১০. স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখুন   

গরমের দিনে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, প্রচুর পানি পান করুন, কারণ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। বাইরে বের হওয়ার সময় হালকা, ঢিলেঢালা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে এমন কাপড় পরিধান করুন। পাশাপাশি টুপি বা ছাতা ব্যবহার করলে সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ঘরের ভেতরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে ফ্যান বা এসি ব্যবহার করতে পারেন। তবে ঘর পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি, যাতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে।খাবারের ক্ষেত্রে তাজা ফল ও সবজি বেশি করে খান, যা শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং শক্তি জোগায়। এছাড়া ব্যায়াম করার জন্য সকাল বা সন্ধ্যার সময় বেছে নিন, যখন তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললে গরমের দিনেও সুস্থ, স্বস্তিদায়ক ও স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখা সম্ভব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ দেখলেন পুলিশ সদস্য

মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ দেখলেন পুলিশ সদস্য

মোহাম্মদপুরে এসআইকে কুপিয়ে জখম, পিঠে ৪৩টি সেলাই

মোহাম্মদপুরে এসআইকে কুপিয়ে জখম, পিঠে ৪৩টি সেলাই

৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পদত্যাগপত্রে যেসব কথা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি

পদত্যাগপত্রে যেসব কথা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App