হেপাটাইটিস প্রতিরোধে মানুন ১০ জরুরি স্বাস্থ্যপরামর্শ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাল হেপাটাইটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাস বহন করেন। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং একসময় তা লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো জটিল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।
ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য। বিশেষ করে হেপাটাইটিস সি আধুনিক চিকিৎসায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় অনেক রোগী গুরুতর জটিলতায় পড়ছেন।
আরো পড়ুন : হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষায় যা করবেন
১. জন্মের পরই হেপাটাইটিস বি টিকা দিন
নবজাতকের জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সব ডোজ সম্পন্ন করতে হবে।
২. নিরাপদ রক্ত গ্রহণ করুন
রক্ত নেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে, সেটি হেপাটাইটিস বি, সিসহ অন্যান্য সংক্রমণের জন্য পরীক্ষিত।
৩. জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন
সিরিঞ্জ, সুচ, দাঁতের চিকিৎসার যন্ত্র বা ট্যাটু-পিয়ার্সিংয়ের সরঞ্জাম অবশ্যই জীবাণুমুক্ত হতে হবে। একই যন্ত্র একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করবেন না
রেজর, টুথব্রাশ, নেইল কাটার বা রক্তের সংস্পর্শে আসতে পারে—এমন কোনো সামগ্রী অন্যের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত নয়।
৫. নিরাপদ যৌন আচরণ অনুসরণ করুন
হেপাটাইটিস বি রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই নিরাপদ যৌন আচরণ সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
৬. প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করান
যাদের রক্ত গ্রহণের ইতিহাস রয়েছে, পরিবারের কারও হেপাটাইটিস আছে বা স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করেন, তাদের নিয়মিত হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করা উচিত।
৭. গর্ভাবস্থায় স্ক্রিনিং করান
গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা করলে মা থেকে নবজাতকের শরীরে সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
৮. উপসর্গ না থাকলেও সতর্ক থাকুন
জন্ডিস, গাঢ় প্রস্রাব, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা বা দীর্ঘদিন পেটের ডান পাশে অস্বস্তি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৯. চিকিৎসা শুরুতে দেরি করবেন না
হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধ রয়েছে এবং হেপাটাইটিস সি আধুনিক ওষুধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই রোগ শনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
১০. সচেতনতা বাড়ান, কুসংস্কার নয়
ভুল ধারণা ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেকেই পরীক্ষা বা চিকিৎসা নিতে চান না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমুক্ত আচরণ রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকাদান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসাই হেপাটাইটিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
