হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’ হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
তারেক রহমান বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে অসংখ্য মানুষ লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। তবে সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তারেক রহমান জানান, সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ করছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম যুক্ত করে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
আরো পড়ুন : হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা আরো কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরো সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। ‘প্রতিরোধই উত্তম’ নীতিকে সামনে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
