×

প্রথম পাতা

গ্যাস সংকটে বিপাকে সব শ্রেণির গ্রাহক

Icon

দেব দুলাল মিত্র

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাস সংকটে বিপাকে সব শ্রেণির গ্রাহক

কক্সবাজারের মহশেখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস না থাকায় বাসা বাড়িতে রান্নায় চলছে ভোগান্তি। গ্যাস না পেয়ে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। যানবাহন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস পেতে সিএনজি খাতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।

এত সংকট ও ভোগান্তির মধ্যেও আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত কাজ শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চয়তাও সংশ্লিষ্টরা দিতে পারছেন না। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। সীমিত সরবরাহের মধ্যে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতে গ্যাস দেয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টার্মিনালে কিছু অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এটি মেরামত করার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এনে দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের স্থাপনা প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার জানান, স্থানীয় প্রকৌশলীরা এফএসআরইউটি পরীক্ষা করেছেন। তবে ত্রুটির কারণ শনাক্ত বা সমাধান করা যায়নি। সে কারণে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনেছেন।

জানা গেছে, ওই এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার প্রতিদিন ৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা নোটিস ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে সামান্য গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ কম থাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

সিএনজি স্টেশনের মালিক-কর্মচারীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ খুবই কম। ফলে ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্যাসের চাপ এতই কমেছে যে, অনেক সময় স্টেশন বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় নারায়ণগঞ্জে গতকাল প্রায় ২০টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস দিতে পারছে না। কিছু জায়গায় সিএনজি গ্যাস নিতে স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি, কাজীপাড়া, রামপুরা, বনশ্রীসহ প্রায় সব এলাকাতেই অনেকের বাসায় রান্নার চুলা জ¦ালানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস না পাওয়ার তিতাসের অফিসে অভিযোগের পাহাড় জমেছে।

পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় সমস্যায় ভুগছে শিল্প প্রতিষ্ঠান। গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদনে বিঘেœর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজিএমইএর নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টার্নওভার অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও এত দিন ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির পর সরবরাহ কমে ২ হাজার ২৬৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

অপরদিকে তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, তিতাসের সরবরাহকৃত এলাকায় স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভয়াবহ দাবানলে স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি

ভয়াবহ দাবানলে স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি

দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা

দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা

বান্দরবানে নৌকাডুবে পর্যটক নিখোঁজ

বান্দরবানে নৌকাডুবে পর্যটক নিখোঁজ

ইরান আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, দাবি ট্রাম্পের

ইরান আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, দাবি ট্রাম্পের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App