নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় তিন নেতা আছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিও
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কে হবেন পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান তা নিয়ে বিএনপি শিবিরে তো বটেই দেশ জুড়ে এখন এই আলোচনা চলছে।
কয়েক দিনের অতি গুঞ্জনের মধ্যে গতকাল শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদের ২১ মাস বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেছেন। চব্বিশের অস্বাভাবিক পটপরিবর্তনের পর নানা আলোচনায় ছিল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করায় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি এখন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ভঙ্গভবনের অধিপতি। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বাংলাদেশ জাতয়িতাবাদী দল-বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। অবশ্য সরকার গঠনের পর থেকেই এই আলোচনা চলে আসছে। রাষ্ট্রপতি হাওয়ার আলোচনার দৌড়ে রয়েছেন- বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলটির বর্ষিয়ান দুই নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খান। তাদের মধ্য থেকে যে কাউকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হতে পারে। তবে দল থেকে এখন পর্যন্ত এরকমের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের আলোচিত ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিস্ময়কর খবর হল-রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এই নামটিও গত দুই দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
