জানে না বাংলাদেশ
দুবাইয়ে জামিন সাবেক আইজি বেনজীরের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত সোমবার দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বৃহস্পতিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তারা বলছে, বেনজীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রতিবেদনগুলোতে দুবাই-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আরো বলা হয়, আদালত জামিনের সঙ্গে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে এসব শর্ত কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, বেনজীর আহমেদের জামিন বা মুক্তি সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্যও করেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিচারক। তবে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুবাই কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেনজীরকে কি ফেরানো সম্ভব : গত ১৪ জুন বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রথম জাতীয় সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়।
এরপর বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীরের প্রত্যর্পণ চায়। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তথ্য ও প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র?্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র?্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেনজীর আহমেদের নামও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
