সুদানে আদালত চত্বরে ড্রোন হামলা, নিহত ৩৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আফ্রিকার দেশ সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ আদালত চত্বরে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরো বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৩ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুরে উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গৃহযুদ্ধের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইমার্জেন্সি লইয়ার্স হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটির দাবি, স্থানীয় বিরোধ ও বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তির জন্য গ্রামের একটি গাছের নিচে বসা প্রথাগত আদালতে সেদিন বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ওই সময় আদালত চত্বর লক্ষ্য করে বিমান ও ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়, এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর দ্য নিউ আরব-এর।
নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে স্থানীয় চারজন প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)–এর দুজন কমান্ডারও রয়েছেন। বর্তমানে গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গ্রামটি কাবকাবিয়া শহরের কাছে এবং দারফুরের গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-ফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। দীর্ঘ সংঘর্ষের পর গত বছরের অক্টোবরে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আরএসএফ।
আরো পড়ুন : আলজেরিয়ায় বাস খাদে, নিহত ২৭
জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের মতে, আল-ফাশের দখল অভিযানে আরএসএফের হামলায় গণহত্যার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গিয়েছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর উভয় পক্ষই ড্রোন হামলার ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। চলমান এই সংঘাতকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
