হাম-ডেঙ্গুতে ছয় জনের মৃত্যু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গ আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জন আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে কারোর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৪ জনের ৩ জন ঢাকা আর বাকি ১ জন সিলেট বিভাগের। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭টি শিশু। তাদের মধ্যে ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২২। এই সময়ে ৯৪৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮৬টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেছে ৮৪৪ শিশুর। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৬টি শিশু মারা গেছে। গত সাড়ে ৪ মাসে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৮ শিশু। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫ শিশু। উপসর্গ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ শিশুর। এ সময়ে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ২ জনের মধ্যে ১ জন খুলনা ও অন্যজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৪২৩ জন ডেঙ্গুরোগী। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৯ জন, খুলনা বিভাগের ৮১ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৯ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন, বরিশাল বিভাগের ৫৪ জন এবং সিলেট বিভাগের ৪ জন রোগী রয়েছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫৬। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ১০৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬ হাজার ৭৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬৮৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২ হাজার ৭৮৯ জন, খুলনা বিভাগের ২ হাজার ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগের ৬১২ জন, রংপুর বিভাগের ৩৪৮ জন, বরিশাল বিভাগের ৩ হাজার ৪২৫ জন এবং সিলেট বিভাগের ১০৩ জন। এছাড়া চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৩০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি আছেন ১ হাজার ১১৮ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
