দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অবিলম্বে একটি পরিপত্র জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ধারা সংশোধন করে কেবল সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং সব ধরনের দুর্ঘটনায় আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার বিধান অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত জারি করা এক রুল আংশিক মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার বিষয় নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।
রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশ জারি করে সার্কুলার ইস্যু করেন। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর আক্রমণ বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি আসলে তাকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়; পরবর্তীতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাতে এ আইনজীবী বলেন, বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। চিকিৎসা না পেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্যই হাসপাতালগুলো লাইসেন্স নিয়ে থাকে, তাই তারা কারো চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে না। প্রথম রোগী আসলেই তাকে চিকিৎসা দেয়া ডাক্তারদের ‘মেডিকেল এথিক্স’ বা চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের অংশ।
এদিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে আদালত; আর বিবাদী সালাউদ্দিন হাসপাতাল তাদের জবাবে রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব পালনের দাবি করেছে। কী
পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার পক্ষে মত দেয় আদালত। এ কারণে রায়ে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আদেশ না দিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে আদালত।
প্রসঙ্গত; ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট আবেদন দায়ের করে।
