×

প্রথম পাতা

জ্বালানি

সহসা কাটছে না গ্যাস সংকট

Icon

দেব দুলাল মিত্র

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সহসা কাটছে না গ্যাস সংকট

দেশে চলছে গ্যাস সংকট। গতকাল রাজধানীর মগবাজার সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেয়ার জন্য গাড়ির লাইন ইস্কাটন গার্ডেন পর্যন্ত চলে যেতে দেখা যায় -ভোরের কাগজ

গ্যাস সংকট সহজেই উত্তরণের কোনো উপায় নেই। বর্তমানে এলএনজির ওপর পুরোপুরি ভরসা থাকার পরও উচ্চমূল্যের এই গ্যাস সরবরাহেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত পুরো সক্ষমতায় ফেরানো যাচ্ছে না। ফলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। টার্মিনালটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে মেরামত করা হলে সারাদেশে আবারো ভয়াবহ গ্যাস সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। অপরদিকে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে শাকসবজিসহ ৩০ শতাংশ ফসল। ব্যবসায়ী ও জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। সিস্টেম লস কমাতে তিতাস ও বাখরাবাদের পুরনো পাইপলাইনগুলো সংস্কার করতে হবে। পায়রা ও মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়া এবং নেপাল/ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। এছাড়া জাতীয় জ্বালানি মজুত বাড়াতে তৃতীয় এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, মহেশখালীতে এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) পুরো সক্ষমতায় ফেরাতে, সেটি আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছুঁইছুঁই

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, গ্যাস সংকটে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তৈরি পোশাক খাতে তীব্র গ্যাস সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। সিমেন্ট শিল্পে উৎপাদন ব্যয় প্রতি ব্যাগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি বেড়েছে। পরিবহন ব্যয়ের মধ্যে কনটেইনার ফ্রেইট চার্জ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এরফলে ব্যবসায়ীদের কনটেইনার প্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। স্টিল ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে কাঁচামালের ব্যয় ও লজিস্টিক খরচ বেড়েছে। স্টিল স্ক্যাপের দাম টনপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলার এবং ওষুধের উৎপাদন উপকরণের ব্যয় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখতে হলে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, শিল্প খাত গ্যাস সংকটে ভুগছে। এই খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে দেশে ডলার আসবে। আমাদের গ্যাসের ৫৮ শতাংশ পাওয়ার জেনারেশনে, ১১ শতাংশ রেসিডেন্সিয়াল, ৫ শতাংশ সিএনজি, ৬ শতাংশ সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। গ্যাসের ৮ শতাংশ সিস্টেম লস, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন ১১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস আসছে এফএসআরইউ দিয়ে।

এটা ২০৩০ সালে মিনিমাম ২৬০০ এমএমসিএফডি লাগবে। এজন্য আরো দুইটা এফএসআরইউ প্রয়োজন। আমাদের গ্যাস আছে কী নেই, সেই বিষয় আমাদের জানতে হবে। যদি থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী প্ল্যান করতে হবে, আর যদি না থাকে তাহলে অন্যভাবে প্ল্যান করতে হবে।

গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। সংরক্ষণ সংকটে কোল্ড চেইন ব্যবস্থার অভাবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদিত ফসল ও সবজি সংগ্রহের পরপরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানাগুলোতে উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের ছাঁটাই করেছে। এই অবস্থায় ছাঁটাই আতঙ্কে ভুগছেন শ্রমিকরা। গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ার অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি গার্মেন্টের ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের নোটিস দেয়া হয়। শ্রমিকরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে।

সাভার ও আশুলিয়া বৃহৎ শিল্পাঞ্চলে ১ হাজার ২০০টি শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাসনির্ভর উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারখানাগুলো গ্যাস সংকটের কারণে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে। তৈরি পোশাক কারখানার বয়লার, ডাইং, ওয়াশিং, ফিনিশিং ও আয়রনিং বিভাগের কার্যক্রম একেবারেই অস্বাভাবিক অবস্থায় পড়েছে। কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা জানান, স্বাভাবিক উৎপাদন ঠিক রাখতে গ্যাসের চাপ ১০ থেকে ১৫ পিএসআই দরকার হয়। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৮ পিএসআই। এই কম চাপের কারণে বয়লার, জেনারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রমিকরা বসে থাকছে। দেরি হচ্ছে শিপমেন্টে, আবার শিপমেন্ট বাতিল হচ্ছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কারখানা মালিকরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চাকরি গেল বিপ্লব কুমার ও রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

চাকরি গেল বিপ্লব কুমার ও রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

গোদাগাড়ীতে অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিক সিলগালা

গোদাগাড়ীতে অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিক সিলগালা

মিয়ানমারে পাচারকালে ট্রাকভর্তি ইউরিয়া সার আটক

মিয়ানমারে পাচারকালে ট্রাকভর্তি ইউরিয়া সার আটক

শেরপুরে নারীসহ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আটক

শেরপুরে নারীসহ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আটক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App