×

প্রথম পাতা

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৬৫ হামের প্রকোপে নিভল ৮৯০ প্রাণ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৬৫  হামের প্রকোপে নিভল ৮৯০ প্রাণ

ছবি: সংগৃহীত

হাম ও এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রের প্রকোপ এখনো ঊর্ধ্বমুখী। দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হাম ও এই রোগের উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে ৮৯০ আর ডেঙ্গুতে ৬৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে

ঢাকায় ২, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুরে একজন করে শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫ শিশু। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯৫ শিশু এবং হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৩ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৯০ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৯১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬ শিশু। আর এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৫৪৩ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৯০৮ শিশু। আর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৯০ শিশু।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা ঢাকার বাসিন্দা। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০১ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ১০৩ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫, বরিশাল বিভাগে ৮০, রাজশাহী বিভাগে ৫১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৩, রংপুর বিভাগে ১৫ ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মোট ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে ৩৬ জন ও আগস্টে ১৩ দিনে ১১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন। আর বিভাগ ভিত্তিক বিশ্লেষণে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৩০ জন মারা গেছেন। খুলনা বিভাগে ১৩ জন ছাড়াও বরিশাল বিভাগে ৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে ১ জন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ২৪৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২৪৩ জনে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছে। মাস ভিত্তিক বিশ্লেষণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি। এই মাসে ৯ হাজার ২০৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে ২ হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিল ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চলতি আগস্টের প্রথম ১৩ দিনেই ৬ হাজার ৯৩৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

‘ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়’

‘ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়’

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়

জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App