বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসছেন, আলোচনায় কারা?
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
কাগজ প্রতিবেদক
প্রত্যাশিতভাবেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমাও দেয়া হয়েছে। দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়, দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। ফলে মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এটা প্রায় পরিষ্কারই। আর তিনি রাষ্ট্রপতি হলে দল ও সরকারের ৩টি পদ ফাঁকা হয়েছে। তবে তার পদত্যাগে দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে যে প্রশ্ন তা হলো- পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন? দলের পক্ষ থেকেও পরিষ্কার কোনো বার্তা মিলছে না। তবে উঠে আসছে কয়েকটি নাম।
দলের একাধিক সূত্র বলছে, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে পদাধিকার বলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সেখানে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণ মহাসচিব করা হতে পারে।
দীর্ঘদিন দলের দপ্তর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে রিজভীর। বিগত দেড় দশকে মামলা-হামলা উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে বাধার মুখেও পিছপা হননি। অনেক সময় হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন। বারবার কারাগারে গেছেন। তারপরও তখন নয়াপল্টনই যেন ছিল তার ঘরবাড়ি। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেও নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার যাতায়াত কোনোভাবেই কমেনি। তাই একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষনেতাদের গুডবুকে তার নামও আছে।
এর বাইরেও সাবেক ছাত্র নেতৃত্ব থেকে বিএনপিতে আসা কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির একটি অংশের চাওয়ার স্থায়ী কমিটি থেকে মহাসচিব হোক। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আমির খসরুর নামও আছে আলোচনায়। তবে এই ২ জনই সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ভার সামাল দিচ্ছেন। এ কারণে তাদের মহাসচিব নাও করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, মির্জা ফখরুলের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
সালাহউদ্দিন আহমদ দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গুমের শিকার হওয়া এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তার তথ্যপূর্ণ বাগ্মিতার কারণেও মহাসচিব হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও সালাহউদ্দিন আহমদের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি একটি সূত্রের।
এই ৩ নাম ছাড়াও আরো দুই সাবেক ছাত্রনেতার নামও এসেছে আলোচনায়। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কিংবা যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ছাত্রদল থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি থেকে রাজপথেও ছিলেন সক্রিয় এ্যানি। বিগত দিনে কারা-নির্যাতিত হয়েছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে ল²ীপুর থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবকিছু বিবেচনায় তিনিও মহাসচিব পদে এগিয়ে আছেন। হাবিব উন নবী খান সোহেলও মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান একাধিক নেতা। ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দল সামলিয়ে মূল দল বিএনপির দুর্দিনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। দলের অনেক নেতা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সরকারে কোনো পদ পাননি তিনি। এমনকি গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নও পাননি। তবে দলের আনুগত্য লঙ্ঘন করেননি। অনেকের ধারণা, দল হয়তো তাকে নিয়ে বড় চিন্তা করছে। তাই সরকারের কোনো পদে রাখা হয়নি। সেক্ষেত্রে আগামীতে বিএনপির মহাসচিব পদে তাকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
মূলত ঘুরেফিরে এই নামগুলোই মহাসচিব পদে আলোচনায় আসছে। তবে এর বাইরেও অন্য কেউ মহাসচিব হতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কেউই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীকালে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে। আপাতত এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়। আর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।
