ডারউইন টেস্ট
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানেই অলআউট
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সবুজ উইকেটের পুরো ফায়দা তুলে নিয়ে হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের দুর্দান্ত পেস আক্রমণে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে। হাসান একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। জবাবে দিন শেষে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে। সাদমান ইসলাম ২০ রানে ফিরলেও তানজিদ হাসান তামিম ৩২ এবং মুমিনুল হক ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এখনো ১০২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, তবে হাতে আছে ৯ উইকেট। যদিও দ্রুত
উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চায় অস্ট্রেলিয়া
হাসানের আগুনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় : টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তের কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে তাদের। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের নতুন বলের সামনে ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ডরা অস্বস্তিতে পড়েন। মারারা স্টেডিয়ামের সবুজ উইকেট থেকে মুভমেন্ট ও বাউন্স আদায় করে নিয়ে নিখুঁত লাইন-লেংথে একের পর এক বল করে গেছেন বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম সেশনেই ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপরও বিপর্যয় কাটেনি। দ্বিতীয় সেশনেও চারটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ গড়েছেন স্টিভ স্মিথ। ব্যক্তিগত ২ রানে জীবন পাওয়ার পর ১০৯ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে আকাশে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। স্মিথের উইকেটসহ মোট ছয়টি শিকার হাসানের। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা টেস্ট বোলিং। টেস্টে তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন তিনি। এছাড়াও তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই ভাগ করে নেন বাংলাদেশের তিন পেসার। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট বাংলাদেশের পেসারদের দখলে গেল। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন কীর্তি হয়েছিল।
ব্যাট হাতেও স্বস্তির বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর ব্যাটিংয়েও শুরুটা দারুণ করেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জীবন পান তানজিদ হাসান তামিম। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। মিচেল স্টার্কের ১৪৩.৪ কিলোমিটার গতির বলে ঠিকভাবে ব্যাট লাগাতে না পেরে ৩০ বলে ২০ রান করে কাভার পয়েন্টে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। যদিও এরপর তানজিদ ও মুমিনুল হক মিলে আর কোনো বিপদ হতে দেননি। দিন শেষে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১ উইকেটে ৯৬ রান। তানজিদ ৩২ ও মুমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত।
এদিকে প্রথম দিনটা যে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশামতো হয়নি, তা স্বীকার করেছেন স্টিভ স্মিথও। তার মতে, বাংলাদেশের আরো কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলে দিনটি কিছুটা ভালোভাবে শেষ করা যেত। স্মিথ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনের সকালে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলাই তাদের লক্ষ্য। রাতের আবহাওয়া ও উইকেটের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট প্রথম দিনের সকালে ছিল স্টিকি ও পেসারদের জন্য সহায়ক। বিকালের দিকে সেটি তুলনামূলক শক্ত ও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হয়ে ওঠে। ফলে দ্বিতীয় দিনের সকালে উইকেটের আচরণ কেমন হয়, সেটিই এখন দুই দলের জন্য বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনেই স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করে দিন শেষে ৯৬ রান তুলে বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সফরকারী দলের কয়েকটি দুর্দান্ত শুরুর কথা। ২০১০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট করেছিল ইংল্যান্ড। দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৫৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ১৫৭ রানে ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০১৬ সালের হোবার্ট টেস্টে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনেই ৮৫ রানে অলআউট হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা দিন শেষ করেছিল ৫ উইকেটে ১৭১ রানে। সেই ম্যাচে ইনিংস ও ৮০ রানে জিতেছিল প্রোটিয়ারা।
২০২০ সালের মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৫ রানে অলআউট হওয়ার পর ভারত দিন শেষ করেছিল ১ উইকেটে ৩৬ রান নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ভারত জিতেছিল ৮ উইকেটে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সেই উদাহরণগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নেয়ার সুযোগ। প্রথম দিনটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের। তবে টেস্টের লড়াই এখনো অনেক বাকি। দ্বিতীয় দিনের সকালের প্রথম ঘণ্টাই বলে দেবে, ডারউইনের এই স্বপ্নের শুরুটা বাংলাদেশ কতটা বড় সাফল্যে রূপ দিতে পারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর- অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে ১৯৮ অলআউট : স্টিভ স্মিথ ৭১, জেক ওয়েদারাল্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২, অ্যালেক্স ক্যারি ১৯; হাসান মাহমুদ ৬/৫৫, ইবাদত হোসেন ২/৩৯ ও তাসকিন আহমেদ ২/৫৫।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস- ২৪ ওভারে ৯৬/১ : মুমিনুল হক ৩৫*, তানজিদ হাসান তামিম ৩২*, সাদমান ইসলাম ২০ ও মিচেল স্টার্ক ১/২৮।
