×

প্রথম পাতা

মুসলিম দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে পারবে তো আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’

Icon

মিলিতা বাড়ৈ মুন্নি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিম দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে  পারবে তো আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। গত বুধবার এক ঘোষণায় হুতি গোষ্ঠীটি জানায়, লোহিত সাগরে একটি সামরিক পরিবহন জাহাজ এবং ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল বাজারসহ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

মূলত গত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে লোহিত সাগরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে হুতি বিদ্রোহীরা। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে পরপর দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। ইয়েমেন সরকার এ হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুতিদের দায়ী করেছে। এরপর বুধবার ওই নতুন হামলার ঘোষণা দিল হুতিরা।

এ বিষয়ে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘ইয়েমেনের মোচা এলাকা এবং মারিব প্রদেশের তাদাউইন শিবিরে সৌদি সমর্থিত সেনাদের অবস্থান, অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সৌদি নাগরিকসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন।’ ইয়েমেন দখল এবং সেখানে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এমন সৌদি সেনা অবস্থানগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন হুতিদের ওই সামরিক মুখপাত্র। আল-জাজিরা সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জবাব কেমন হবে সেদিকে নজর রয়েছে বিশ্ববাসীর। সম্প্রতি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব-পাকিস্তান-তুরস্ক। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে আরো একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই দুই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য- যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দেশগুলো একে অপরকে যৌথ নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে- এসব চুক্তি হওয়ার পরও কেন চুপ করে বসে আসে পাকিস্তান-তুরস্ক। এ দেশ দুটি কেন সৌদির হয়ে লড়ছে না? ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির শর্ত মেনে এক দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশের সেনাবাহিনী যদি তাদের সরাসরি সহায়তা করতে যায়, তাহলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ একেক দেশ একেক ধরনের নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে আগে থেকেই

চুক্তিবদ্ধ। যেমন তুরস্ক ন্যাটোভুক্ত দেশ। আবার, পাকিস্তানের বাহিনী চীনা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে। তাই সব বাহিনীকে একত্রিত করা বেশ জটিলই হবে। তাই হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের যুদ্ধে সৈন্য আর বিমান প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম দিলেও পূর্ণ সেনা সমর্থন দেয়নি পাকিস্তান। আবার ইরান যখন সৌদি আরবে হামলা করে, তখনও পাকিস্তান সৌদির সাহায্যে এগিয়ে যায়নি। কারণ ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত রয়েছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতারা জানান, এই চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের ঘোষণা নয়, বরং এটি একটি যৌথ প্রতিরোধ ও কৌশলগত সহযোগিতা ব্যবস্থা। এ জোট একটি সম্ভাব্য হামলা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি যৌথ প্রয়াস। এ জোট মূলত শান্তির জন্য, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। সম্প্রতি হুতিদের হামলায় জাজান শোধনাগারের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়ায় সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেই পরিস্থিতি সামাল দেয়। এছাড়া ইরান সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে এখনো সংযম ধরে রেখেছে সৌদি আরব। সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে দেশটি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য দেশের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়েনি।

তারা আরো জানান, এ জোট (মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা) তৈরি করে সৌদি আরব-পাকিস্তান-তুরস্ক বিশ্বকে একটি বার্তা দিতে চায়- মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এ জোট। ভবিষ্যতে হয়তো এ জোটে মিসর বা কাতারের মতো দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাই অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলছে।

সংগত কারণেই এখন একটি প্রশ্ন সামনে আসছে- মুসলিম দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে পারবে তো মক্কা চুক্তি? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া এক অস্থির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্র বলে পরিচিত পারস্য উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর ওপর তেহরানের পাল্টা আঘাতে এই জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় সৌদি আরব। সংঘাত-বিক্ষুব্ধ মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে তিনটি সুন্নি মুসলিম দেশের এমন সামরিক সহযোগিতা এক শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা দিচ্ছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের এই তিন অংশীদারেরই অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু নিজস্ব সম্পদ বা শক্তির জায়গা রয়েছে। যেমন পাকিস্তান একমাত্র মুসলিম দেশ, যার পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। তুরস্কের রয়েছে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাশিল্প ও ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ সামরিক বাহিনী। আর বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের রয়েছে বিশাল আর্থিক শক্তি ও মার্কিন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক সেনাবাহিনী।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নতুন জোটের আওতায় রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটিও গঠিত হবে। এসব কমিটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন। সৌদি আরবে থাকবে একটি সচিবালয়। তিন দেশ যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন ও সামরিক সক্ষমতার পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাইরের পরাশক্তিগুলোর ওপর নিরাপত্তা নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর নিজেদের উদ্যোগে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি করাকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মক্কা চুক্তিকে দীর্ঘকাল ধরে বিভক্ত মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ। চুক্তিটি সই হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকেও এতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে বৃহত্তর ইসলামিক ঐক্যের রূপ নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

‘ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়’

‘ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়’

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়

জুমার নামাজে এক রাকাত ছুটে গেলে কী করণীয়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App