ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৮ জনের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে বেড়ে চলছে ডেঙ্গু ও হাম এবং এই রোগের উপসর্গে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গেল ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গ আর এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৫ জন আর ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে; হামে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন ঢাকা, ১ জন সিলেট আর অপরজন চট্টগ্রাম বিভাগের। গেল ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৪৯। এই সময়ে ১ হাজার ৫৫ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪৬ শিশু। ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১৯ জন, সিলেটে ৯৮, রাজশাহীতে ৩১, ময়মনসিংহে ৫৩, চট্টগ্রামে ৩০৭, বরিশালে ১৫৪, খুলনায় ৭৩ ও রংপুর বিভাগে ২০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৩৮ শিশু মারা গেছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪১ জন। রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৪৯, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৮৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৪ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা সবাই ঢাকা বিভাগের। এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৯৪ জন রোগী। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩৮১ জন ঢাকা, ৭১ জন ময়মনসিংহ, ১০৭ জন চট্টগ্রাম, ২১৫ জন খুলনা, ৭৬ জন রাজশাহী, ২৩ জন রংপুর, ১১৭ জন বরিশাল এবং ৪ জন সিলেট বিভাগের।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে ৮৫ জনের প্রাণ কেড়েছে। এর মধ্যে চলতি আগস্ট মাসে মারা গেছে ৩১ জন। এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৯২৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৭ হাজার ৭৫৮ জন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৮০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
