৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির আমানতের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কাটছাঁট করা হবে না। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরও গ্রাহকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। তাই ব্যাংকের সব আমানতকারীকে মুনাফায় কোনো কাটছাঁট হবে না—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারবেন।
এর মধ্যে রয়েছে আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ। এ সুবিধা চালু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও পড়ুন: আমানত ফেরত পাচ্ছেন ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা
এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশের একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব নির্দেশনার ফলে আমানতকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ চালু হলে গ্রাহকদের আর্থিক চাপও কিছুটা কমবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুত চালু হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
