এসএসসির রুটিন
২০২৭ সালের পরীক্ষা শুরু ১৪ মার্চ থেকে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ১৪ মার্চ, আর শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। এরপর অনুষ্ঠিত হবে ব্যাবহারিক পরীক্ষা। গতকাল সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই সময়সূচি প্রকাশ করে। সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়। ১৫ এপ্রিল তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে শুরু হবে ব্যাবহারিক পরীক্ষা। তবে ২২ এপ্রিলের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করতে নির্দেশনা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
এর আগে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হলো। সাধারণত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেই প্রচলিত সূচি বেশ কয়েকবার ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অপচয় কমাতে পরীক্ষা আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৫ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
একই সঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এই পরীক্ষার ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন নিতে হবে; প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে; প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না; পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা আরম্ভের অন্তত ৭ দিন পূর্বে সংগ্রহ করবে; শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়সমূহ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এর নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যাবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাতে হবে; পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না; পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে না; পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৭ দিন পূর্বে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন; পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে; কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না; সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে; ব্যাবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে; পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় এবং শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে।
