শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, রুপা গ্রেপ্তারে সিজেএর নিন্দা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ)।
সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক এ সংগঠন মনে করে, তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার হত্যা-নির্যাতনে উসকানির অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত সোমবার এই তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
শ্যামল দত্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক। মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক।
এদের বিষয়ে গত ১৭ আগস্ট মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনের সংবাদ সম্মেলনসহ পরবর্তী সময়ে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
এই ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের’ বিষয়ে গত সোমবার সিজেএর বিবৃতিতে বলা হয়, মামলায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের বিষয় টানা হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার সময় ‘উসকানিমূলক মন্তব্য’ করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে করা প্রশ্ন যতই বিতর্কিত হোক না কেন, তা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্বের মৌলিক অংশ। শুধু এ কারণে কোনো কাজকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
সিজেএ মনে করে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ব্যবহার বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক নজির’ তৈরি করছে। অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। কিন্তু কেবল প্রশ্ন করা, কোনো ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করা কিংবা কোনো একটি পক্ষের প্রতি রাজনৈতিকভাবে সহানুভূতিশীল মনে হওয়ার কারণে সাংবাদিকদের অপরাধী বানানো যায় না।
