প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে ইতালিতে গেলেন অন্য নারী
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ইতালির ভিসা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর ভিসা ব্যবহার করে অন্য নারীকে বিদেশে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর মানবপাচারের ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর গুলশানে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
যেভাবে প্রতারণার শিকার হন ভুক্তভোগীরা : সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, ভুক্তভোগী এক নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নবায়নের জন্য দূতাবাসে গেলে তার পরিচয় হয় নাজমুল হাসানের সঙ্গে। নাজমুল নিজেকে ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পাসপোর্ট নবায়নের আশ্বাস দেন ও পরে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় মো. বেলায়েত হোসেনকে। অভিযুক্তরা ভিসা করে দেয়ার নামে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা পরিশোধের পর তার পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হয়।
বিমানবন্দরে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর জালিয়াতির তথ্য : সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী ইতালিগামী বিমানের টিকেট কাটার পর নির্ধারিত দিনে সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে গেলে কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে ইতোমধ্যেই অন্য এক নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতালি চলে গেছেন। এ তথ্য জানার পর তিনি বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে অন্য কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারে জড়িত চক্র : সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে যাওয়া প্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো ছিল তাদের অন্যতম কৌশল। তদন্তে আরো উঠে এসেছে, চক্রের হোতা মো. বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলায় জামিনে রয়েছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
