হামের উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই ঢাকার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনই ঢাকায়। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে কারোর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৬ জনের মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকি ২ জন সিলেট বিভাগের। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির
উপসর্গ দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬০টি শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৬৪ জন আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০। সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (২৪০ জন) ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪ জন ছাড়াও বরিশাল বিভাগে ৫৩, খুলনা বিভাগে ৫০, রাজশাহী বিভাগে ২৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, রংপুর বিভাগে ১২ ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫৯। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৮০ জন। মোট ১৬ হাজার ৫৪০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ১ হাজার ২৮১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ২৬ জন মারা গেছেন। খুলনা বিভাগে ১২ জন, বরিশাল বিভাগে ৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে ১ জন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন ছাড়াও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন এবং জুন মাসে ডেঙ্গুতে ১৩ জন মারা যান। তবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে মশাবাহিত রোগটিতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে জুলাই মাসের ৩১ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৬ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ, ৬ মাসের চেয়ে গত মাসেই ডেঙ্গুতে দ্বিগুণ মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
