রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবসে ছায়ানটে মঞ্চস্থ হলো গীতিনাট্য ‘শ্যামা’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
শ্রাবণের স্নিগ্ধ বিষাদে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যেন ভিন্নরূপে সেজেছিল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। কবিগুরুর স্মরণে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ছায়ানট মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় কবির গীতিনাট্য ‘শ্যামা’।
বিশ্বকবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় একটি নৃত্যনাট্য হলো ‘শ্যামা’। শ্যামা মূলত গীতবিতান-এর অন্তর্ভুক্ত একটি গীতিনাট্য বা নৃত্যনাট্য। এটি বৌদ্ধ যুগের একটি উপাখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রচিত। যেখানে প্রেম, অপরাধ, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতার এক গভীর দ্ব›দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন রবীন্দ্রনাথ। মূল চরিত্র শ্যামা এক রাজসভার নৃত্যশিল্পী। বজ্রসেন বিদেশি এক ধনী বণিক বা সওদাগর। শ্যামার এক অনুগত তরুণ ভক্ত ও প্রেমিক উত্তীয়। শ্যামা ভালোবেসে ফেলেন বজ্রসেনকে। কিন্তু এক চুরির মিথ্যা অভিযোগে বজ্রসেনকে কারাবন্দি ও মৃত্যুদণ্ড দেয় রাজা। বজ্রসেনকে বাঁচাতে শ্যামা উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। তিনি উত্তীয়কে অনুরোধ করেন বজ্রসেনের বদলে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে। উত্তীয় শ্যামার টানে রাজি হন এবং বজ্রসেনের পরিবর্তে ফাঁসিকাঠে চড়ে। বজ্রসেন মুক্ত হলে শ্যামা ও বজ্রসেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং সুখে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু শ্যামার এই অপরাধ ও পাপবোধ তাদের সম্পর্কে চিরতরে ছায়া ফেলে। ভালোবাসার দাম দিতে গিয়ে শ্যামার আত্মিক পতন ঘটে। সত্য জানার পর বজ্রসেন শ্যামাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।
শ্যামা চরিত্রে মনীষা সরকার, বজ্রসেন চরিত্রে দীপ্র নিশান্ত, উত্তীয় চরিত্রে সঞ্জয় বণিক, কোটালের ভূমিকায় অর্ণব বড়ুয়া এবং বন্ধুর চরিত্রে মো. ইনজামাম উল-হোসেন ইমন অভিনয় করেন। ছায়ানট শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় মঞ্চজুড়ে সৃষ্টি হয় এক নান্দনিক শিল্পভুবন।
গীতিনাট্যের সংগীত পরিচালনা করেন এ.টি.এম. জাহাঙ্গীর এবং সার্বিক সজ্জা-পরিকল্পনায় ছিলেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবীন্দ্র-প্রয়াণদিবসের এই আয়োজন কেবল একটি গীতিনাট্যের মঞ্চায়ন ছিল না, বরং কবিগুরুর সৃষ্টিশীল দর্শন ও মানবিক চেতনার প্রতি ছায়ানটের গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য হয়ে উঠেছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে নেপথ্যকথন পরিবেশন করেন তানিয়া মান্নান।
