×

শেষের পাতা

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতের দাবি নাগরিক সমাজের

Icon

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি  অধিকার নিশ্চিতের দাবি নাগরিক সমাজের

ছবি: সংগৃহীত

কাগজ প্রতিবেদক

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিত, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আদিবাসীদের সংস্কৃতি, মাতৃভাষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

‘আদিবাসী জনগণ : জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকাস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে এএলআরডি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংস্থা যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সংসদ সদস্য আন্না মিনজ; অ্যাড. মাধবী মারমা সম্মানিত অতিথি ছিলেন। মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, গবেষক ও নৃ-বিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমসহ মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও আদিবাসী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের জীবন, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে ভূমির সম্পর্ক গভীর। তাই ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রথাগত নেতৃত্ব ব্যবস্থা নিয়ে মাধবী মারমা বলেন, কারবারি, হেডম্যান ও রাজা প্রথা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের অংশ। এই প্রথা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি প্রথাগত

নেতাদের আরো শিক্ষিত ও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ভূমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেডম্যানদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় জমি বিক্রি বা প্রথাগত মালিকানা হস্তান্তরে হেডম্যানের সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ। একই জমি নিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে রিপোর্ট দেয়ার মতো ঘটনা বিরোধ সৃষ্টি করে।

জুম চাষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পাহাড়িদের ঐতিহ্যগত কৃষি পদ্ধতি। শুধু জুম চাষের কারণে বন উজাড় হয়- এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। জুম চাষকে আধুনিকায়ন এবং জুমনির্ভর জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মাধবী মারমা বলেন, নিজের ভাষায় শিক্ষা শিশুর শেখার ভিত্তি তৈরি করে। মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে সংস্কৃতির একটি বড় অংশও হারিয়ে যায়। তাই পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মাতৃভাষার চর্চা বাড়াতে হবে।

আন্না মিনজ বলেন, অধিকার আদায়ে নিজেদের ঐক্য আরো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বঞ্চনার বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্রের ইতিবাচক উদ্যোগ কাজে লাগাতে হবে। অধিকার, শিক্ষা, ভূমি ও উন্নয়নের মতো মৌলিক ইস্যুতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে সরকারের কাছে আদিবাসীদের উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংবিধানের ২৩ক ধারায় বর্ণিত ‘উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দগুলো বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অন্তর্ভূক্ত করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে অবিলম্বে উদ্যোগ নেয়া এবং এর সভা নিয়মিত সম্পন্ন করে কমিশনকে গতিশীল করা; সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন করা; আদিবাসীদের অধিকার দেখভালের জন্য জাতীয়ভাবে একটি অধিদপ্তর গঠন করা যেটি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য গঠিত হবে এবং এই অধিদপ্তরটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অন্তর্ভূক্ত থেকে কাজ যাতে করতে পারে তা নিশ্চিত করা; আদিবাসী এলাকায় পর্যটন শিল্প প্রসারিত করার আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা যাতে ব্যাহত না হয় এবং তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টির প্রতি সম্মান রেখে ভ্রমণের জন্য সরকারিভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা; পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমতলের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে এ নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক করা; সরকার ঘোষিত নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসীদের নিয়োগ দেয়া এবং ধাত্রীবিদ্যার সাথে যুক্ত যে সকল আদিবাসী নারী আছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করে সরকারি ব্যয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া; পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নেয়া; সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে আদিবাসী ও বাঙালিদের চিনিকলের নামে অধিকৃত ন্যায্য ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকারের জরুরি উদ্যোগ নেয়া।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, আমাদের দেশের বৈচিত্র্যের যে সংস্কৃতি তাকে ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার যে রংধনু জাতির কথা বলছে, যে অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে যা আদিবাসীদের জন্য সম্ভাবনার, নতুন পথে চলার প্রেরণা দিচ্ছে। কিন্তু তাকে বাস্তবে রূপ না দিলে আবার আমরা পিছিয়ে যাব। যে বৈষম্য নিরসনের চেতনার কথা বলা হচ্ছে আদিবাসীদের বাদ রেখে তা সম্ভব নয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদিবাসীদের কোনো বিতর্ক ব্যতীত সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া উচিৎ। আদিবাসীদের তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যাতে করে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে তাদের ন্যায্য দাবিকে দুর্বল করে না দেয়। আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি নেই, এটিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি সংসদীয় আদিবাসী বিষয়ক ককাস গঠন এবং এটিকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে সরকারকে আহ্বান জানান।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কর্মসূচীতে আদিবাসী ধাত্রীরা তাদের লোকজ জ্ঞান নিয়ে যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে তার স্বীকৃতির পাশাপাশি আদিবাসীদের মাতৃমৃত্যু, নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন আদিবাসীদের সংস্কৃতি, সমাজ সবকিছু ভূমির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্তমানের আদিবাসীদের যে ভূমিহীনতার সংস্কৃতি দৃশ্যমান তা বন্ধ করে আদিবাসীদের ন্যায্য ভূমি অধিকার নিশ্চিতে তিনি সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শেখ হাসিনার বক্তব্যে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনার বক্তব্যে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শব্দ সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ জীবন

শব্দ সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ জীবন

ছুটির দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫

ছুটির দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫

ভারতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১২৭৯ মসজিদের মাইক অপসারণ

ভারতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১২৭৯ মসজিদের মাইক অপসারণ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App