×

শেষের পাতা

ইশরাক হোসেন

জুলাই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মব পরিকল্পিত

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানকে কিছু ব্যক্তি বানচাল করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, আমরা ইদানীং মব কালচার হিসেবে জানি, সেই কাজটি তারা করে। নতুন গঠিত দল এনসিপি নেতা একজন সংসদ সদস্য ও তার কিছু অনুসারীরা সেখানে খুব সুপরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এমন একটি অবস্থা তৈরি করেন, যার ফলে আমাদের দেশের সুনাম সারা পৃথিবীতে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি অপূরণীয়। কারণ সেখানে উপস্থিত সব কূটনীতিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই-

আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, তারা যে অজুহাত দিয়েছিল, যে কারণটি দেখাচ্ছিল, সেই বিষয়ে আমি বিস্তারিত এখন বলব না। কিন্তু কোনো মানুষের একটা প্রতিবাদ বা তার একটা মন্তব্য বা একটা মত থাকতেই পারে বা কোনো একটা বিষয়ে সে দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। কিন্তু একটা রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে সেই দ্বিমত প্রকাশ করার অনেক সভ্য উপায় রয়েছে। আমাদের ওই অনুষ্ঠানে যারা মন্ত্রী ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান, তিনি রীতিমতো হাত জোড় করেছিলেন, কারণ সেখানে বিদেশি কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু যারা সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য দেশের সুনাম নষ্ট করেছে, সারা পৃথিবীতে আমাদের যে কূটনীতিবিদরা বাংলাদেশে উপস্থিত ছিল, তাদের সামনে আমাদের সম্মানহানি করেছে। আমি মঞ্চে বসা ছিলাম, আমি খুব ভালোভাবে সেটি দেখতে পেয়েছি। তারা কীভাবে সেই জায়গায় অবস্থান নেয় এবং তাদের যে একটা পরিচয় ‘জুলাইযোদ্ধা’- সেটিকে ব্যবহার করে অনেকেই সেখানে অনুপ্রবেশ করে এবং এই পরিস্থিতি তৈরি করে।

তিনি আরো বলেন, এই জুলাইযোদ্ধাদের বা জুলাইযোদ্ধা শব্দটিকে ব্যবহার করে একটি ছোট গোষ্ঠী জুলাইয়ে যে আন্দোলনটি হয়েছিল, সেখানে দল মত ধর্ম বর্ণ গোত্র বয়স নির্বিশেষে এমন কোনো মানুষ নেই যারা অংশগ্রহণ করেননি। ৪ বছরের শিশু রিয়া গোপ থেকে শুরু করে রিকশা শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা প্রায় ২ হাজারের কাছাকাছি মানুষ ৩৬ দিনে জীবন দিয়েছে। এই দেশের জন্যে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাই এককভাবে কোনো গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তিবর্গ যদি এটার কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, সেটা কোনো রাজনীতি হতে পারে না। সেই রাজনীতি আসলে রাজনীতি নয়। সেটা একটা দোকান খুলে বসার মতো বলতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করতে হলে একটা নীতি থাকতে হবে এবং নীতি আদর্শের ওপরে ভিত্তি করে রাজনীতি করে যেতে হবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছিলাম। বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছিল, সেটি ছিল ১৯৭১ সালে এবং কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে চিন্তা করলে- সেটি যারা করবে, আসলে ধরে নিতে হবে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষেরই শক্তি ছিল। ১৯৭১ সালে যে কারণে তাদের ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছিল, তারা হয়তো এখন সেটিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করতে চায় অনেক সময়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বোকা নয়। বাংলাদেশের জনগণ নির্বোধ নয়। বাংলাদেশের একেবারে সাধারণ গ্রামের মানুষটিও জানে যে, মুক্তিযুদ্ধ কী এবং কারা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি ছিল। বাংলাদেশের পক্ষে বা বিপক্ষে ইতোপূর্বে কাজ করেছে। আমি খালি এতটুকু বলতে চাই, আপনারা ইতিহাস যদি দেখেন বিএনপির, আমাদের কোনো গণহত্যার ইতিহাস নাই। আমাদের কোনো সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান করার ইতিহাস নাই। কিন্তু অন্য দুটি বড় রাজনৈতিক দল যদি বলি তাহলে তাদের ৭১-এর ইতিহাস কী ছিল? তাদের অবস্থান কী ছিল বাংলাদেশ প্রশ্নে সেটাও আমরা জানি। গণহত্যার সঙ্গে তারা জড়িত ছিল কিনা, সেটাও আমরা জানি। ২০২৪ সালে আরেকটি দল, তারাও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা, বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল কিনা, সেটাও বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে।

ইশরাক হোসেন বলেন, যারা জুলাইযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং গতকালের (বুধবার) এই ঘটনার পর সেই রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং আজ বিরোধীদলীয় নেতা যে দাবি করেছে, ‘ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছি আমরা’, এটা কোনোদিনও কী সম্ভব? ২০২৪ সালে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন কি ইতিহাস বিকৃত করে একটা কিছু চালালেই সেটা সম্ভব হয়ে যেতে পারে? না। সেখানে যে প্রদর্শনীটি করা হয়েছিল তথ্যচিত্র, সেটা কয়েক মিনিটের এবং সেই অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে এটা কোনো ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছিল না। তাদের যে অবদান সেটাকে তো আমরা কোনোদিনও অস্বীকার করি নাই, করব না। কেন আমরা তাদের অবদান অস্বীকার করব, তারা তো আমাদেরই ভাই, আমরা একসঙ্গেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম।

তিনি বলেন, তাহলে আজ পুরা রাষ্ট্রকে কেন সারা বিশ্বের কূটনীতিবিদদের সামনে লজ্জিত এবং অপমানিত করল তারা, ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যে? তাদের যদি কোনো মতপার্থক্য থাকত, তার জন্যে কিন্তু যথেষ্ট সভ্য উপায় ছিল আমাদের সঙ্গে কথা বলার, আমাদের সঙ্গে কমিউনিকেট করার। আমরা সেই জিনিসটা সংশোধন করতাম। কিন্তু তারা সেটি না করে যে অন্যায় আচরণটি করেছে তার মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়ে যায়, আসলে ওইটা ছিল একটা অজুহাত, যেকোনো অজুহাতেই তারা গোলযোগ করবে। এ ধরনের একটা পরিকল্পনা শুধু ওই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে না, সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, যখন অনুষ্ঠানটি শুরু হয়, তার আগে শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেখানে গিয়ে আমি শহীদ পরিবারদের মায়েদের কাছ থেকে, বাবাদের কাছ থেকে যারা সন্তান হারিয়েছে- যে ধরনের অভিযোগ পেয়েছি এগুলো যদি এখন আমি বলি, তাদের রাজনীতির ‘র’ আর থাকবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শেখ হাসিনার বক্তব্যে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনার বক্তব্যে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শব্দ সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ জীবন

শব্দ সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ জীবন

ছুটির দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫

ছুটির দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫

ভারতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১২৭৯ মসজিদের মাইক অপসারণ

ভারতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১২৭৯ মসজিদের মাইক অপসারণ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App