তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুরের জামিন স্থগিত
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সেইসঙ্গে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা না হলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হবে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, চেম্বার আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাফিজুর রহমান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে নি¤œ আদালত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রবিবার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তনু হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি।
বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২ আগস্ট তাকে জামিন দেয়। এর দুই দিনের মাথায়, ৪ আগস্ট তিনি কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পান। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সবশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিনি আদালতে সাবেক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির আবেদন করেন। তারা হলেন- এ
মামলার প্রধান আসামি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম। এরপর ২২ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।
এ ছাড়া সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন জাহিদুজ্জামান ও শাহিনুল আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেয় আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৭ জুলাই কুমিল্লার হাকিম আদালতের আরো দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে। আদালত ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুতের পাশাপাশি তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। ওই দুজন হলেন- সাবেক সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং ফয়সাল আহমেদ রাব্বাী। তাদের মধ্যে রাব্বী সামরিক বাহিনীতের ছিলেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
