×

শেষের পাতা

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়

দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস পেল ১০ আসামি

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস পেল ১০ আসামি

ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর খালাস পেয়েছেন বাকি ১০ আসামি। গতকাল সোমবার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন। খালাস পেয়েছেন মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে : ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল। আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। পরীক্ষা শুরুর আগে বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে খবর পেয়ে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে যান তিনি।

সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল কয়েকজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নুসরাতকে ধরে ছাদে ফেলে তার হাত-পা ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। পরে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আগুন দ্রুত তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হলেও পরে ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

ঘটনার শুরু অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে : নুসরাত হত্যার মূল সূত্রপাত ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ। ওই দিন মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন নুসরাত। তার মা শিরিনা আক্তার থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার মুক্তির দাবিতে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও নানা কর্মসূচি শুরু হয়। নুসরাতের পরিবার অভিযোগ করে, মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাদের নিয়মিত হুমকি দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি হননি। তদন্তে উঠে আসে, কারাগারে থাকা সিরাজ-উদ-দৌলা তার অনুসারীদের মাধ্যমে নুসরাতকে চাপ দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তাকে হত্যার পরিকল্পনাও করেন। সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে হত্যার ছক তৈরি করা হয়।

শাহাদাতের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে হত্যার ভয়াবহ তথ্য : হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন ও নূর উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দি থেকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে। তদন্তে বলা হয়, নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেয়া, হাত-পা বেঁধে ফেলা, কেরোসিন ঢালা, আগুন ধরিয়ে দেয়া ও ঘটনাস্থলের আশপাশে পাহারা দেয়ার জন্য আসামিদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়, শাহাদাত হত্যার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নুসরাতকে হত্যার জন্য প্রয়োজনীয় বোরখা ও কেরোসিন সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হয়।

সাত মাসেই নি¤œ আদালতের রায় : নুসরাতের মৃত্যুর পর তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০১৯ সালের মে মাসে পিবিআই ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মাত্র সাত মাসের মাথায়, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

হাইকোর্টে বদলে গেল সাজা : নি¤œ আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট নি¤œ আদালতের রায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলেন। ১৬ জনের মধ্যে শুধু সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চারজনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন নুসরাত : নুসরাতকে যখন ঢাকায় চিকিৎসার জন্য আনা হয়, তখনও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কথা বলেছিলেন। তার ওপর চালানো নির্মমতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বিচারের দাবিতে রাজপথে নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দেশের আলোচিত বিচারিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। নুসরাত হত্যার পাশাপাশি তাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর সাত বছর পর হাইকোর্টের রায়ে মামলাটিতে নতুন মোড় এসেছে- দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন ও ১০ জনের খালাসের মধ্য দিয়ে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মৃত্যুর মামলায় ম্যারাডোনার বদলে বাবার মেডিকেল রিপোর্ট!

মৃত্যুর মামলায় ম্যারাডোনার বদলে বাবার মেডিকেল রিপোর্ট!

গ্যাস সংকট কাটাতে কতদিন লাগবে, জানালেন ডা. জাহেদ

গ্যাস সংকট কাটাতে কতদিন লাগবে, জানালেন ডা. জাহেদ

সংস্কার কার্যক্রমে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংস্কার কার্যক্রমে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App