বিশ্বকাপে হার, তবুও নিজের দেশে ভালোবাসায় ভাসল আর্জেন্টিনা দল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। কিন্তু রানার্সআপ হয়ে দেশে ফেরার পরও ভালোবাসার কমতি হয়নি লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতি। আনুষ্ঠানিক কোনো সংবর্ধনার আয়োজন না থাকলেও হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে এসে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন গত দুই আসরের ফাইনালিস্টদের। পতাকা, গান আর স্লোগানে তারা জানিয়ে দিয়েছেন- ট্রফি না জিতলেও এই দলটি জায়গা করে নিয়েছে তাদের হৃদয়ে।
স্থানীয় সময় গত সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক থেকে রওনা হয়ে বুয়েনস এইরেসের ইজেইজা মিনিস্ত্রো পিস্টারিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা দল।
বিমানবন্দরে নামার পর গ্রেনেডিয়ার রেজিমেন্টের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও জনপ্রিয় ‘মুচাচোস’ গানের সুরে বরণ করে নেয়া হয় বিশ্বকাপ রানার্সআপদের। লাল গালিচায় সংবর্ধনা পান কোচ লিওনেল স্কালোনি ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি।
এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ছাদখোলা বাসে করে দলটিকে নিয়ে যাওয়া হয় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। পথে পথে অপেক্ষায় ছিলেন অসংখ্য সমর্থক। কেউ পতাকা উড়িয়েছেন, কেউ গান গেয়েছেন, আবার কেউ নেচে-গেয়ে প্রিয় দলকে জানিয়েছেন অকুণ্ঠ সমর্থন। কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও সমর্থকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পরিণত হয় আবেগঘন এক অভ্যর্থনায়। তবে দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পল। ফাইনালে লাল কার্ড দেখা এনজো ফের্নান্দেস, লাওতারো মার্তিনেস, হুলিয়ান আলভারেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা, জেরোনিমো রুলি, নিকো পাজ ও হুয়ান মুসোর মতো আরো কয়েকজন ফুটবলারও দেশে ফেরেননি। বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ফুটবলে যোগ দেয়ার প্রস্তুতির কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন।
কোচ ও স্টাফদের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন বাকি ১৬ ফুটবলার। তাদের মধ্যে ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও নিকোলাস ওতামেন্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা। দেশে ফিরেই তারা দেখেছেন সমর্থকদের ভালোবাসার অন্যরকম দৃশ্য। বুয়েনস এইরেসের রাজপথে পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত পরিবেশই বলে দিয়েছে, শিরোপা না পেলেও মানুষের মন ঠিকই জয় করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয় স্কালোনির দলের। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে গোলের ব্যবধান ছিল সামান্য, কিন্তু পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি।
তবু গত দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যই সমর্থকদের ভালোবাসার বড় কারণ। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারো ফাইনালে উঠে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি করেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও স্কালোনির দলকে বরণে কোনো কার্পণ্য করেননি সমর্থকেরা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এএফএ) সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড়ই সমর্থকদের ভালোবাসা অনুভব করেছেন। টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এবারের ফল যথেষ্ট না হলেও এই বিশ্বকাপ আবারও প্রমাণ করেছে, দল ও সমর্থকদের মধ্যকার বন্ধন কোনো ফলাফলের ঊর্ধ্বে। দেশে ফেরার পর সমর্থকদের এমন ভালোবাসা যেন আরো একবার সেটিই প্রমাণ করল- বিশ্বকাপের ট্রফি এবার আর্জেন্টিনার হাতে ওঠেনি, কিন্তু তাদের মানুষের হৃদয়ে জায়গাটি ঠিকই অটুট আছে।
