ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় দেশটির সরকারের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিরল ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।
ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজ মালিকানাধীন মার-এ-লাগো রিসোর্টে সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তকে আমি অত্যন্ত সম্মান জানাই।
এ ছাড়া রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইরানের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন, ইরানে ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল, যা এখন আর হচ্ছে না। পোস্টে তিনি সংক্ষেপে লেখেন, “ধন্যবাদ!”
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির সরকার যদি গণহারে মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাতে পারে— ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির কয়েক দিন পরই তার এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য সামনে এলো। যদিও বর্তমানে ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত কমে আসতে পারে।
ইরানের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের তেমন মিল না থাকলেও, তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে— আগে তিনি যে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, সেখান থেকে এখন কিছুটা সরে আসছেন।
এর আগে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” তবে শুক্রবার সেই প্রতিশ্রুতি এখনও বহাল আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেখা যাক কী হয়।”
আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চাপে তিনি কি ইরান হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কেউ আমাকে বোঝায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তারা কাউকে ফাঁসি দেয়নি। এই সিদ্ধান্ত আমার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
তবে ইরান সরকারের কার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই তথ্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু জানাননি। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একদিকে তিনি ইরানের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে দেশটিতে কঠোর দমনের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর দুর্বল অর্থনীতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশটির ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে সেই অস্থিরতা অনেকটাই স্তিমিত বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী তেহরানে বড় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি এবং স্বাভাবিক জনজীবন ফিরতে শুরু করেছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও নতুন করে সহিংসতার খবর দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ শুক্রবার জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৭ জনে, যা আরো বাড়তে পারে।
এদিকে ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
সূত্র: এপি।
