যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সময়ে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এসব কারণে অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গত বছর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে বৈধ ভিসাধারীসহ বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসা বাতিলের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করছেন না।
আরও পড়ুন: গোপনে ট্রাকে চড়ে ফ্লাইট পাল্টে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প
ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের কথা উল্লেখ করেছে দপ্তর। এ ছাড়া ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানব পাচার এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগের ঘটনাতেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১০০টির বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। এসব দম্পতি সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত বছর রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন। দপ্তরের ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ তাই এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় এটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।
তবে অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
