ইরানি হামলার আতঙ্ক
গোপনে ট্রাকে চড়ে ফ্লাইট পাল্টে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের এক নাগরিকের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর গত মাসে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনটির বরাতে রয়টার্স জানায়, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গত মাসে কাতারের দেওয়া নতুন সংস্কার করা একটি উড়োজাহাজে করে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় হঠাৎ করে তাঁর যাত্রাপথ ও উড়োজাহাজ পরিবর্তন করা হয়।
আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি পুরোনো আকাশি-নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহলে যাবেন। একই সময়ে কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটিও সেখানে যাবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে গোপনে বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট সামরিক উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেই উড়োজাহাজেই তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পরই এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন নথি ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
আরও পড়ুন: যুদ্ধে জড়িয়ে আটকে গেছেন ট্রাম্প, মিলছে না মুক্তির পথ
ট্রাম্পের এই সফরের সময় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তীব্র হচ্ছিল। একই সময়ে তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সফররত সাংবাদিকদের একটি দলও প্রথমে ধারণা করেছিল, তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করছেন। তবে পুরো ফ্লাইটজুড়ে বিমানের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।
পরে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প তাদের বলেন, তারা সম্ভবত ‘একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ ছিলেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ঝুঁকি নিলে তাঁর সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদেরও সেই ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সাংবাদিকদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানও সেখানে পৌঁছায়। তবে সি-৩২এ থেকে ট্রাম্পকে কীভাবে আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়া, নিহত বেড়ে ১৩২
পরে রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। তিনি সাংবাদিকদের দিকে বিজয়চিহ্ন দেখান এবং পরে মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
গোপনে তৃতীয় একটি উড়োজাহাজে ট্রাম্পের যাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং বলেন, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখছে এমন অনেক শত্রু রয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
এর আগে ২০০০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে তাঁর আনুষ্ঠানিক এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ভিন্ন পথে পাঠিয়ে ক্লিনটনকে অন্য একটি সরকারি উড়োজাহাজে পরিবহন করা হয়েছিল।
