×

এশিয়া

ভুয়া কনের ফাঁদে নিঃসঙ্গ পুরুষরা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

ভুয়া কনের ফাঁদে নিঃসঙ্গ পুরুষরা

ছবি : সংগৃহীত

চীনে জীবনসঙ্গীর খোঁজে থাকা অনেক পুরুষ এখন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ঘটকালি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে। বিশেষ করে বেশি বয়সী ও অবিবাহিত পুরুষদের টার্গেট করে কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া তথ্য দিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করছে। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক সংকটেও পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।

চীনা যুবক ওয়াং ঝুয়াং ৩৭ বছর বয়সে এসে জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। এমন সময় তাঁর চোখে পড়ে কয়েকটি ঘটকালি সংস্থার বিজ্ঞাপন। সেখানে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন সম্পর্ক করে সময় নষ্ট না করে সরাসরি এমন নারীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, যারা সংসারী, নম্র ও স্বামীর প্রতি অনুগত।

ঘটকদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশের গুইয়াং শহরে যান ওয়াং। সেখানে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর মনে হয়, কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী বুঝি পেয়েই গেছেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি।

ওয়াংয়ের দাবি, ওই নারীর বিষয়ে ঘটকালি সংস্থা যেসব তথ্য দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই ছিল মিথ্যা। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী আগে কারাওকে বারে কাজ করতেন, এর আগে তিনবার বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। বয়স নিয়েও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর ঋণের বিষয়টিও গোপন রাখা হয়।

ওয়াং বলেন, এই ঘটনায় তাঁর পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি লড়াই করছেন এবং বিয়ের জন্য ঘটকালি সংস্থাকে দেওয়া অর্থের অন্তত একটি অংশ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করা অর্থের বড় একটি অংশ তিনি এই বিয়েতে ব্যয় করেছেন।

চীনে বাড়ছে পুরুষের সংখ্যা

ওয়াংয়ের ঘটনা চীনের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যাগত বৈষম্যের একটি দিক সামনে এনেছে। দেশটিতে কয়েক দশক ধরে চালু থাকা এক সন্তান নীতি এবং ছেলে সন্তানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সামাজিক প্রবণতার কারণে নারী-পুরুষের সংখ্যায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসে চীন। তবে এর আগেই তৈরি হওয়া জনসংখ্যাগত বৈষম্যের প্রভাব এখনো রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাঁজা খেয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন পাইলট, এরপর যা ঘটল!

বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলের অবিবাহিত পুরুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। জীবনসঙ্গী পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা, বাড়ি-গাড়ি ও পারিবারিক ব্যবসার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের সময় কনের পরিবারকে অর্থ দেওয়ার প্রচলিত রীতিও পুরুষদের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতিতে গুইঝৌয়ের মতো প্রদেশে ঘটকালি সংস্থাগুলোর চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি বয়সী ও নিঃসঙ্গ পুরুষদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

ঘটকালি সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

চীনে এ ধরনের প্রতারণার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ম্যাচমেকিং খাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ৫৪৬ জনের মামলা পরিচালনা করেছেন দেশটির প্রসিকিউটররা।

জনমনে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় চলতি মাসে পাঁচটি সরকারি সংস্থা ঘটকালি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে। তদন্তে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা কারাওকে বারের কর্মীদের ব্যবহার করে ১২৮ ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নিয়েছে।

আইনজীবী ফ্যান বিংহে বলেন, ঘটকালি খাতে প্রতারণা বন্ধে আরও কঠোর বিধিনিষেধ ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

বিয়েতে লাখ লাখ ইউয়ান খরচ

ওয়াং জানান, ঘটকালি সংস্থাটি তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে প্রতারণার শিকার হলে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। এরপর তিনি সংস্থাটিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের সহায়তায় কয়েক দিনের মধ্যেই আটজন নারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তাঁদের মধ্যে একজনকে পছন্দ করেন ওয়াং।

বিয়ের জন্য তিনি ৩ লাখ ইউয়ানের বেশি খরচ করেন। বিয়ের ভোজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ ইউয়ানে দাঁড়ায়। বিয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে ঘটকালি সংস্থাটি নিজেদের প্রচারণাতেও ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ১২

কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরই ওয়াংয়ের কাছে পাওনাদারদের ফোন আসতে শুরু করে। তাঁরা দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী তাঁদের কাছে ঋণগ্রস্ত। এতে সন্দেহ তৈরি হয় ওয়াংয়ের মনে।

পরে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে তিনি আগের বিয়ে ও পেশা-সংক্রান্ত কিছু নথি খুঁজে পান। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে স্ত্রী পণের অর্থ ফেরত না দিয়েই বিচ্ছেদের প্রস্তাব দেন বলে দাবি ওয়াংয়ের।

এরপর ঘটকালি সংস্থাটির কার্যালয়ে গিয়ে ওয়াং দেখেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছে। ফলে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে আইনি লড়াই ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো পথ থাকেনি।

বর্তমানে গুইয়াংয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন ওয়াং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে তিনি অন্য পুরুষদের সতর্ক করছেন, যাতে তাঁরা ঘটকালি সংস্থার প্রলোভনে পড়ে একই ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।
সূত্র: বিবিসি

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কাল পদত্যাগ করতে পারেন মির্জা ফখরুল

কাল পদত্যাগ করতে পারেন মির্জা ফখরুল

'গোল্ডেন শু' আবারও হ্যারি কেইনের

'গোল্ডেন শু' আবারও হ্যারি কেইনের

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে যা বললেন জামায়াতের ১১ এমপি

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে যা বললেন জামায়াতের ১১ এমপি

ভুয়া কনের ফাঁদে নিঃসঙ্গ পুরুষরা

ভুয়া কনের ফাঁদে নিঃসঙ্গ পুরুষরা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App