×

এশিয়া

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলো ১৫০০ রোহিঙ্গা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০০ এএম

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলো ১৫০০ রোহিঙ্গা

ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন সতর্কতার মধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে তাদের মিয়ানমারে পাঠানোর কথা রয়েছে। খবর আল জাজিরার।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে।

এর আগে জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫ হাজার জনকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ হাজারের বেশি মানুষকে শরণার্থী নিবন্ধন নথি কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী আরও ৫ হাজার মানুষকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে মিয়ানমারের ১০ হাজার ৩৮৮ নাগরিক আটক ছিলেন। তবে আটক ব্যক্তিদের সবাই শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত নন।

আটকদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন পরিস্থিতি, আশ্রয়ের আবেদন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ যাচাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। চলতি মাসের শুরুতে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছিল, মিয়ানমারে ফেরার পর কোনো শরণার্থীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে প্রত্যাবাসন করা হবে না।

মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও জানিয়েছিলেন, দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া এমন কোনো মিয়ানমার শরণার্থীকে ফেরত পাঠাবে না, যিনি সেখানে নিপীড়নের শিকার হতে পারেন বা যার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। সংগঠনটির অভিযোগ, দেশটির সামরিক বাহিনী এখনো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। তবে দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদাও স্বীকৃতি দেয় না।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

এদিকে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই মুসলিম। তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। ফলে রোহিঙ্গারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিএনপি কোনোদিন পোষ্য বিরোধী দল পাবে না

সারজিস আলম বিএনপি কোনোদিন পোষ্য বিরোধী দল পাবে না

সরকারের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে যেসব জেলা

সরকারের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে যেসব জেলা

গ্যাস সংকটের যাঁতাকূপে সারের বাজার, বিপাকে চাষিরা

গ্যাস সংকটের যাঁতাকূপে সারের বাজার, বিপাকে চাষিরা

নেপালে আবারও ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত

নেপালে আবারও ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App