বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফার মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে আহত হনুফা বেগম (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হনুফা বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল মৌ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মো. শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আলাউল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হনুফা বেগমের মেয়ের জামাই সুজন তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হনুফা বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শাহবাগ থানা পুলিশ করবে। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় করা মামলায় হত্যার ধারা সংযোজন করা হবে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট সকালে হনুফা বেগম তাঁর মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিমকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। বাড়ির পাশে তাঁরা তিনটি চিপসের প্যাকেট রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এর নিচে একটি নতুন বাজারের ব্যাগও ছিল, সেটিও চিপসের প্যাকেটগুলোর সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
বিষয়টি দেখতে যাওয়ার সময় ইতি একটি ইটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রশিতে টান দেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হনুফা, তাঁর মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিমের শরীরে আগুন লেগে যায়। পরে তিনজনই নদীতে ঝাঁপ দেন।
আরও পড়ুন: একজনের অপরাধে অন্যেজনের ফাঁসি
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আহত তিনজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফা বেগমের মৃত্যু হলো।
ঘটনার পর হনুফা বেগমের ছেলে জামাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।
ঘটনার দিন পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বোমা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরক ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে হাতে তৈরি বোমাটি বানানো হয়েছিল। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেটি সেখানে রেখেছিল, সে রহস্য তখনও উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
হনুফা বেগমের মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
