সূর্যগ্রহণ ঘিরে উৎসবের আমেজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনের সাধারণত নিরিবিলি ছোট ছোট গ্রামগুলো বুধবার ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়ে সরগরম। বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে জড়ো হন পর্যটক, আকাশ পর্যবেক্ষক ও বিজ্ঞানীরা। কারও হাতে বিশেষ চশমা, কারও হাতে দূরবিন কিংবা ক্যামেরা সবার অপেক্ষা ছিল দিনের আলোয় কয়েক মুহূর্তের অস্বাভাবিক অন্ধকার দেখার।
স্পেনের উত্তরাঞ্চলের কাস্তিয়া ও লেয়ন অঞ্চলের বুর্গোস শহরে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব ছিল দুই মিনিটেরও কম। রাশিয়া ও গ্রিনল্যান্ডের কিছু এলাকায় তা প্রায় আড়াই মিনিট স্থায়ী হয়। তবে পুরো আংশিক গ্রহণ স্থায়ী ছিল প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে স্পেনে আসা ৫১ বছর বয়সী বিজ্ঞান শিক্ষক আনা কটস এই বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগকে দারুণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পরে এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।
এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেল। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর এমন গ্রহণ দেখা যাওয়ায় কয়েক দিন ধরেই গ্রহণের পথের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল।
আরও পড়ুন: রুশ জাহাজ জব্দের চেষ্টা হলে পাল্টা ব্যবস্থা: পুতিন
ফ্রান্সে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী পেরুর নাগরিক ইয়েনি গুয়েভারা আগেভাগে থাকার জায়গা ঠিক না করেই স্পেনে চলে আসেন। গ্রহণ দেখার উদ্দেশ্যে বুধবার সকালে বুর্গোসে পৌঁছে তিনি বলেন, জীবনে এবারই প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সৌরপদার্থবিদ লুসি গ্রিন নিজেকে ‘গ্রহণ শিকারি’ হিসেবে পরিচয় দেন। এবার তিনি স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপের কাছে একটি নৌকা থেকে গ্রহণ দেখেছেন। তাঁর মতে, সূর্যগ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা এতটাই আবেগঘন যে অনেকেই পরে এ ধরনের দৃশ্য দেখার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।
সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও সূর্যগ্রহণ দেখার বিশেষ চশমার সংকটও দেখা দেয়।
স্পেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রহণকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার পর্যটক দেশটিতে আসতে পারেন। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর কারণে গ্রামাঞ্চলের ছোট সড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, গ্রহণ দেখতে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লাখ গাড়ি রাস্তায় নামতে পারে।
সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি আড়াল করলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর যে সরু পথে পড়ে, সেটিকে বলা হয় ‘পূর্ণগ্রাসের পথ’।
আরও পড়ুন: শিশুর সিটবেল্টে আপত্তি, বাতিল পুরো ফ্লাইট
এবারের গ্রহণের ছায়া রাশিয়ার দুর্গম আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছায়।
শুধু পর্যটক বা গ্রহণপ্রেমীরাই নন, বিজ্ঞানীরাও এই মহাজাগতিক ঘটনার জন্য অপেক্ষা করেন। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠ চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ায় এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় সৌরবায়ু, সূর্যের চৌম্বকক্ষেত্র ও বাইরের বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণার সুযোগ পান বিজ্ঞানীরা।
২০২৭ সালের আগস্টে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকার ওপর দিয়ে আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ যাবে। এরপর ২০২৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপে দেখা যাবে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।
বলয়গ্রাসের সময় চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করলেও সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আলোর একটি বলয় বা ‘আগুনের আংটি’ দেখা যায়।
