×

বিএনপি

যেভাবে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম

যেভাবে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান

ছবি : সংগৃহীত

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দলের নাম দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’—বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়।

পরদিন দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন দল গঠনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে। ক্ষমতাসীন অবস্থায় দলটির যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে নানা রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে দলটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।

তবে বিএনপি প্রতিষ্ঠার আগে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল—জাগদলের মাধ্যমে। সেই দল গঠনের পর বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট হিসেবে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টও তৈরি করা হয়। পরে জাগদলসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়।

ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে রাজনীতিতে

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। ওই সময় জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হন।

পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও কাছাকাছি চলে আসেন। বিচারপতি আবু সাদত মো. সায়েম রাষ্ট্রপতি থাকলেও জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় না দিয়ে একজন সৈনিক হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন। পরে ১৯৭৬ সালের নভেম্বরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন তিনি। বিচারপতি সায়েমের পদত্যাগের পর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান।

এরপর ধীরে ধীরে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে এগিয়ে যান।

১৯৭৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল গঠিত হয়। দলটির চেয়ারম্যান করা হয় তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে। জিয়াউর রহমান নিজে সরাসরি দলটির নেতৃত্বে না থাকলেও এর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এরপর বৃহত্তর রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালের ১ মে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠিত হলে জিয়াউর রহমান নিজেই এর চেয়ারম্যান হন।

জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৮ সালের ৩ জুন অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হন জিয়াউর রহমান। এর মাত্র কয়েক মাস পরই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। নতুন দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়কে গুরুত্ব দেন।

বিএনপির গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যুক্ত হন। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে থাকা জাগদল, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বাধীন ভাসানী ন্যাপ, শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি ও লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নতুন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়।

বিএনপি গঠনের আগে জাগদল বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সময়ে শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগও নতুন দলে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও ধারার নেতাদের সমন্বয়ে বিএনপির প্রাথমিক কাঠামো গড়ে ওঠে।

ডান-বাম বিভাজনের বাইরে থাকার বার্তা

নতুন দলটি ডানপন্থী না বামপন্থী—এমন প্রশ্নও তখন সামনে এসেছিল। জিয়াউর রহমান দলকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সংকীর্ণ কাঠামোয় না রেখে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জন্য কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হলেও প্রথম সংবাদ সম্মেলনে কমিটির অন্য সদস্যদের নাম জানানো হয়নি। পরে পর্যায়ক্রমে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে।

ক্ষমতাসীন দল থেকে বিরোধী রাজনীতিতে

বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবস্থায়। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সময় জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্ব দেন।

পরের বছর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপি ক্ষমতা হারায়। এরপর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর ২০০১ সালেও দলটি সরকার গঠন করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির সাংগঠনিক ও গণভিত্তি আরও বিস্তৃত হয়।

এখন নেতৃত্বে তারেক রহমান

জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর এখন দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে দলটির জন্মের ইতিহাস তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাগদল থেকে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপি—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মেসিকে বিদায় জানিয়ে এনজোর হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

মেসিকে বিদায় জানিয়ে এনজোর হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, সম্পাদক মাহমুদুর রহমান

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, সম্পাদক মাহমুদুর রহমান

বড় সুখবর পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা

বড় সুখবর পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা

মেসির ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো

মেসির ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App