মেসির ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানান ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তার অবসরের ঘোষণার পর আবারও আলোচনায় এসেছে দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।
২০০৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন মেসি। ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে বার্সেলোনার তিনটি গোলই আসে তার পা থেকে। এর মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমনের জানান দেন আর্জেন্টাইন তারকা।
এর এক মাস পর গেতাফের বিপক্ষে কোপা দেল রের সেমিফাইনালে অসাধারণ এক গোল করেন তিনি। একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা সেই গোলটির সঙ্গে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত গোলের তুলনা করা হয়।
২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হেডে গোল করেন মেসি। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে সেটিই ছিল তার প্রথম গোল। একই ম্যাচকে মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেও দেখা হয়।
২০১০ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে এক ম্যাচে চার গোল করেন মেসি। দুই বছর পর বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে পাঁচ গোল করে গড়েন আরও একটি অনন্য রেকর্ড।
২০১২ সালে গ্রানাদার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙেন মেসি। ক্লাবটির হয়ে শেষ পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭২।
একই বছরে ক্যালেন্ডার বছরে ৯১ গোল করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন তিনি। এর মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৭৯ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১২ গোল করেন মেসি। অসাধারণ এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে তার নাম ওঠে গিনেস বুক অব রেকর্ডসে।
২০১৪ সালে সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেন মেসি। স্পেনের শীর্ষ লিগে শেষ পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭৪।
২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে বার্সেলোনাকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। এটি ছিল ক্লাবটির হয়ে মেসির ৫০০তম গোল। গোলের পর জার্সি খুলে দর্শকদের সামনে নিজের নাম দেখিয়ে উদযাপনের দৃশ্যটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে।
২০২১ সালে ২১ বছরের বার্সেলোনা অধ্যায়ের ইতি ঘটে মেসির। ক্লাবটির হয়ে ৬৭২ গোল ও ৩৫টি ট্রফি জয়ের পর লা লিগার বেতনসীমার কারণে নতুন চুক্তি করতে পারেননি তিনি। আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বার্সেলোনা ছাড়েন মেসি। পরে যোগ দেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০২১ সালে। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে মেসির প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি। ম্যাচ শেষে আবেগে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে সতীর্থরা তাকে কাঁধে তুলে উদযাপন করেন।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোল করেন তিনি এবং টাইব্রেকারেও সফল হন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে সাত গোল করে জেতেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
২০২৩ সালে অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন মেসি। বার্সেলোনার পাশাপাশি পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময়ও বিশ্বসেরার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের ছাপ রেখে গেছেন মেসি। টুর্নামেন্টে আট গোল করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১। পরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল করে তাকে ছাড়িয়ে যান।
৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে তুললেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আরও একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ কাটান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মেসি। এই সময়ে জিতেছেন কোপা আমেরিকার দুটি শিরোপা ও ২০২২ বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে।
একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে বড় শিরোপা না জেতার আক্ষেপই ছিল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হতাশা। শেষ পর্যন্ত সেই জার্সিই তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকাসহ অসংখ্য গৌরবের মুহূর্ত।
এবার সেই আকাশি-সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অধ্যায় শেষ হলেও বিশ্ব ফুটবলে রেখে গেলেন এমন এক উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করবে।
