‘অপহরণ’ নয়, প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার দাবি নববধূর
হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস থামিয়ে এক নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও এবার সামনে এসেছে ভিন্ন তথ্য। নববধূ তামান্না আক্তারের দাবি, তাকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং দীর্ঘদিনের প্রেমিক আতিকুর রহমান মিয়ার সঙ্গে তিনি নিজের ইচ্ছাতেই চলে গেছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শুরুতে ‘নববধূ অপহরণ’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেও তামান্নার বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তার দাবি, আতিকুর রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে তাদের সম্পর্ক মেনে না নিয়ে অন্যত্র বিয়ের আয়োজন করায় দুজনের সম্মতিতেই একসঙ্গে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূ তামান্নাকে নিয়ে বরযাত্রীর একটি মাইক্রোবাস নান্দাইলের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি থামানো হয়। এ সময় সেখানে কয়েকজন যুবক উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে নববধূকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এটিকে অপহরণের ঘটনা হিসেবে প্রচার করতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে নববধূ তামান্না আক্তার দাবি করেছেন, তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় তার প্রেমিক আতিকুর রহমানের সঙ্গে চলে গেছেন।
আরও পড়ুন: ডিবি পরিচয়ে জামায়াত নেতাকে অপহরণ
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আতিকুরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং দুজনই একে অপরকে ভালোবাসতেন। কিন্তু পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে না নিয়ে অন্যত্র তার বিয়ের ব্যবস্থা করে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সিদ্ধান্তেই তারা একসঙ্গে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
তামান্নার দাবি, ঘটনাটিকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, তামান্না ও আতিকুরের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের জানা ছিল বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে ঘটনার শুরুতে বরযাত্রীর গাড়ি থামানো এবং কয়েকজন যুবকের উপস্থিতিতে নববধূকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে অপহরণের ধারণা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
তবে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে যে তামান্নার সঙ্গে আতিকুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তামান্নাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নাকি তিনি নিজের ইচ্ছায় প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছেন—তা তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
