ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, সম্পাদক মাহমুদুর রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সংগঠনটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের প্রস্তাবের পর প্রতিবছর সাংবাদিকতায় ‘নজরুল পদক’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল।
প্রথম সাধারণ সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক অংশ নেন। এ সময় কিছু সংশোধনীসহ সংগঠনটির প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়।
সভাপতি শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের ঐক্য নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী সম্পাদকরা।
সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত মাহমুদুর রহমান বলেন, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই ও শত শত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। এখন সাংবাদিকদের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।
যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার মাধ্যমে স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছিলেন এবং নিজেও একজন সফল সম্পাদক ছিলেন। তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর সাংবাদিকতায় নজরুল পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল। এনইসিকে যাতে সারা দেশের গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নিউ নেশনের সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া খবর সংযোগের সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাকের সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতার সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্টের সম্পাদক সদরুল হাসান, বাণিজ্য প্রতিদিনের সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং খোলা কাগজের সম্পাদক মনির হোসেনসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা সভায় মতামত দেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও কয়েকজন সম্পাদক সভায় অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্পাদকদের আরও বৃহত্তর পরিসরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
