বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে আলোচনায় যে তিন নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি ; সংগৃহীত
বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে দলের শীর্ষ কয়েকটি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মহাসচিব পদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ নিয়েও দলের ভেতরে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। এর অংশ হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের শূন্য পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এই পদে বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের পাশাপাশি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও দলের অভ্যন্তরে আলোচনায় এসেছে।
তবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত দেয়নি। কাউন্সিলের আগে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শিগগিরই জাতীয় কাউন্সিল
বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, কাউন্সিলের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কাউন্সিল খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানও দ্রুত জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও আগামী বছরের শুরুতে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সামনে দুটি বড় সাংগঠনিক কাজ
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বিএনপির সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ রয়েছে। একটি হলো স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং অন্যটি জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত এক দশকে তা সম্ভব হয়নি।
তবে কাউন্সিল না হলেও এই সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন অনেক নেতা দায়িত্ব পেয়েছেন, কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন এবং কেউ আবার বিভিন্ন পদ থেকে সরে গেছেন।
এবার জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় আরও পরিবর্তন আসে কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের।
