ঢাকা-১০ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরকে ইউনূসের ফোন, দাবি রাশেদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-১০ আসনে আসন সমঝোতা না হওয়া এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করেননি! শুধু জিজ্ঞেস করেন, জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়েননি? নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছেন, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরও আসিফ মাহমুদের আসনটি ছাড়েননি।’
আরও পড়ুন: এনআইডির তথ্য অনিয়মে ইসিতে বরখাস্ত ৪
রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোনে কথা বলেছিলেন।
ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবুহু দেওয়া হলো-
আসিফ মাহমুদ কোন দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিগ্যেস করেন জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই? নাহিদ ইসলাম এবিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটা ছাড়েনি! নাহিদ ইসলামের ভাষায় জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিলো, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি।
এমনকি আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩ টা আসন বেশি ছাড়বো, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করিয়েন না! আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতে আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই। সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রয়োজন এই বিষয়ে সন্দেহ লাগলে উপরিউক্ত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ তুলতে পারেন।
আরও পড়ুন: বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
আজকের সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোন নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট! এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলো! দুদকের কোন কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলো, যেটা আমি নিজে জানি। এবিষয়ে আমি একজন উপদেষ্টাকে জানালে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এতো টাকা দিতে পারেনা।
আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিলো অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু বিরোধীতার কারণে, বিরোধীদলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতোটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাবো, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলো!
