জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন এমপি মনিরুল হক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মহান মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি জানান। একই সঙ্গে জেনারেল ওসমানীর যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত না করায় একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জেনারেল ওসমানীর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। এমনকি দেশের পাঠ্যপুস্তকেও তার জীবন ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ বিষয়টি তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ব্যথিত করেছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ছিল জেনারেল এমএজি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। ওই উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করেন। পরে টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে খোঁজ নিয়ে দেখেন, ওসমানীর জন্মবার্ষিকী নিয়ে তেমন কোনো সংবাদ প্রচার হয়নি।
দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত নানা বিষয়ে আলোচনা ও টকশো হলেও জেনারেল ওসমানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্মবার্ষিকী নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মনিরুল হক বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য। এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমেও আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জেনারেল ওসমানীর সামরিক অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে তার সামরিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে জেনারেল ওসমানীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অবদানের জন্য দেশের মানুষের উচিত তাকে যথাযথভাবে স্মরণ করা।
একপর্যায়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মনিরুল হক বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি লজ্জিত এবং এ জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান। তার অভিযোগ, জেনারেল ওসমানীর প্রতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে যথাযথ মর্যাদা দেখানো হয়নি।
পাঠ্যপুস্তকে ওসমানীর অবদান যথাযথভাবে তুলে না ধরার বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান। বিভিন্ন পর্যায়ের বই সংগ্রহ করে বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। তার দাবি, শিশুদের ও স্কুলের বইসহ বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে জেনারেল ওসমানীর বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য তিনি খুঁজে পাননি।
মনিরুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কারও দয়ায় অর্জিত হয়নি। স্বাধীনতার পেছনে যেসব মানুষের অসামান্য অবদান রয়েছে, তাদের যথাযথভাবে স্মরণ করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
জেনারেল ওসমানীকে নিরহংকার, সৎ ও সাহসী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন গুণের অধিকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ওসমানী অন্যতম। তিনি জেনারেল ওসমানীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সংসদে তিনি স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে একটি সংসদীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানান। তার প্রস্তাব, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং জাতীয় কর্মসূচিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়ে সংসদ থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
