এমবাপ্পেকে অপহরণের পরিকল্পনা, অতঃপর...
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেকে অপহরণ ও লুটের পরিকল্পনা করেছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তবে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সময়মতো ওই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘লা পারিজিয়েন’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমবাপ্পেসহ দেশটির বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তিকে টার্গেট করেছিল চক্রটি।
এই চক্রের নেতৃত্বে ছিল ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। অপরাধজগতে সে ‘লেস্টার জেড’ নামে পরিচিত। তার আসল নাম ক্লেমেন্ট এল। ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এই তরুণ বর্তমানে ভিলপিন্টে কারাগারে বন্দি। সশস্ত্র ডাকাতি, মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত এপ্রিল মাসে নুইলি-সুর-সেনের এক ঘড়ি ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই অপরাধী চক্রের সন্ধান পায়।
তদন্তে জানা যায়, কারাগারে বসেই স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ওই তরুণ। কারাগার থেকে উদ্ধার করা দুটি মোবাইল ফোনে ধনী ব্যবসায়ী, সংগীতশিল্পী ও ফুটবলারদের নাম-ঠিকানার তালিকা পাওয়া যায়।
তালিকায় প্যারিসের ১৯তম জেলার এক চীনা পাইকারি ব্যবসায়ী, কয়েকজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং ভ্যাল-ড’ওয়াজের এক তুর্কি মাংস ব্যবসায়ীর নামও ছিল। এসব ব্যক্তির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কোটিপতিও চক্রটির নজরে ছিলেন।
তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং একজন শীর্ষস্থানীয় র্যাপার। তাদের অপহরণ করে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও কিছু অদ্ভুত তথ্য জানতে পারে। রান্নাবিষয়ক একটি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের প্রথম বর্ষের পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া ওই তরুণ দাবি করেছে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার পড়াশোনা শুরু করতে চায়। ভবিষ্যতে তার ইচ্ছা একজন শেফ হওয়ার।
তবে পুলিশের তদন্তে তার বিরুদ্ধে উঠে আসা গুরুতর অভিযোগ তার সেই দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। এমবাপ্পের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারকে টার্গেট করার পরিকল্পনা সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে ফ্রান্সে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
