ভোক্তা-অধিকারের সতর্কতা ও ৭ নির্দেশনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ফাইল ছবি
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নাম, পরিচয় ও কর্মকর্তাদের পদবি ব্যবহার করে ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহির ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর এবং এর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের নাম, পরিচয় ও কর্মকর্তাদের পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করার ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
আরও পড়ুন: রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ মার্কেট-শপিংমল, বিলবোর্ড ৭টায়
প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি কিংবা বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক হিসাব বা অন্য কোনো মাধ্যমে এভাবে অর্থ দাবি বা গ্রহণ করা তাদের অনুমোদিত কোনো কার্যক্রম নয়।
এ ছাড়া অধিদপ্তরের নাম, পরিচয়, পদবি, লোগো বা সরকারি কার্যালয়ের পরিচিতি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ নির্দেশনায় যা বলা হলো
> অধিদপ্তর বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে কেউ অর্থ, চাঁদা, জরিমানা, ঘুষ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করলে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
> কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা দাবির সত্যতা যাচাই না করে আর্থিক লেনদেন না করতে বলা হয়েছে।
আরো পড়ুন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে
> এ ধরনের ফোনকল বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, ফোনকারীর পরিচয়, কলের সময়, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ, মেসেজ, স্ক্রিনশটসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
> অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটলে দ্রুত সদর দপ্তর, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বা জেলা কার্যালয়কে জানাতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
> এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতারকদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, যোগাযোগের মাধ্যম ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে তাদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
> দেশের সব ব্যবসায়ী, দোকান মালিক, বাজার কমিটি, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সতর্ক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
> প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থেকে নিজে নিরাপদ থাকার এবং অন্যদেরও সতর্ক করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
