রাঙ্গামাটি
সড়কের ভাঙন রোধে সওজের কাজ শুরু, স্বস্তি
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ও সড়ক ভাঙনের ঝুঁকি এড়াতে রাঙ্গামাটি শহর ও উপজেলার আন্তঃসড়কগুলোতে আগাম সংস্কারকাজ শুরু করেছে রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ইতিমধ্যে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’ ভবনের সম্মুখভাগে গত বর্ষা মৌসুমে ধসে যাওয়া প্রধান সড়কটির মেরামত ও সুরক্ষামূলক কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
পাইপ পাইলিংয়ের মাধ্যমে বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণে বস্তা দিয়ে প্রটেকশন ব্লকের কাজ করা হচ্ছে। সওজের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে পাহাড়ি এই শহরের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
বিগত বছরগুলোতে বর্ষা এলেই রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হতো। তবে এবার বর্ষার শুরুতেই সওজের এমন তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে সড়কটিকে শক্তিশালী করতে পাইপ পাইলিংয়ের মাধ্যমে বালি ও সিমেন্টের মিশ্রণে বস্তা দিয়ে প্রটেকশন ব্লকের কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সওজের এমন দূরদর্শী ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এবার বর্ষায় অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে।
সড়কটির নিয়মিত ব্যবহারকারী স্থানীয় এক সিএনজি অটোরিকশাচালক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “গত বর্ষায় উন্নয়ন বোর্ডের সামনের রাস্তাটার একটা বড় অংশ ধসে গিয়ে খুবই বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। গাড়ি নিয়ে ওই জায়গা পার হতে আমাদের বুক কাঁপত। এবার বর্ষার শুরুতেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ যেভাবে সংস্কারকাজ শুরু করেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। কাজটা শেষ হলে আমরা নিরাপদে এবং নিশ্চিন্তে গাড়ি চালাতে পারব। সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “রাঙ্গামাটির ভৌগোলিক অবস্থান ও পাহাড় ধসের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এবার বর্ষার শুরু থেকেই অত্যন্ত সতর্ক আছি। উন্নয়ন বোর্ডের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার করে টেকসই করার জন্য আমরা দ্রুত কাজ করছি, যাতে চলতি বর্ষায় আর কোনো নতুন ধস বা দুর্ঘটনা না ঘটে। শহরের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে রাঙ্গামাটি সওজ বিভাগ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”
