প্রেমিক রাজুর সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল তাজমিনের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনের মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে শেষ যোগাযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন প্রেমিক রাজু। তার দাবি, বাড়ি ফিরে প্রধান ফটক বন্ধ ও বাবার ফোন বন্ধ পেয়ে তাজমীন তাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
পরে এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটানোর কথা বললেও ভিডিও কলে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখে বকাঝকা করেন তিনি। এরপর তাজমীন লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন এবং এক ‘আঙ্কেলের’ বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়ে মেসেজ পাঠান।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে আটকের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন রাজু। এ সময় তাজমীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগে তাদের শেষ যোগাযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সকালে তাজমীন কক্সবাজার বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তিনি তাকে গ্রহণ করেন। পরে তারা কলাতলীর ‘মেঘলা’ রিসোর্টের একটি কক্ষে এক দিন অবস্থান করেন। এ সময় তাজমীনের পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার ফোন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজু তাজমীনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন বলে দাবি করেন।
রাজু জানান, তাজমীনকে বাড়ি পাঠানোর জন্য তিনি আইকনিক এক্সপ্রেসের কাউন্টার থেকে বাসের টিকিট কেটে দেন। পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমীন বাসে ওঠেন।
বাড়ির ফটক বন্ধ, বাবার ফোনও বন্ধ
রাজুর দাবি, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তাজমীন তাকে জানান, বাড়িতে পৌঁছে প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছেন। তার বাবার ফোনও বন্ধ ছিল। তখন রাজু তাকে ফটকের সামনে অপেক্ষা করতে অথবা অন্য কারও ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরে তাজমীন এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফেরার কথা জানান বলে দাবি করেন রাজু।
এরপর ভিডিও কলে তাজমীনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। রাজুর ভাষ্য, এ সময় তিনি তাজমীনকে বকাঝকা করেন এবং অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু তাজমীন কল কেটে দিয়ে লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন।
পরে তাজমীন তাকে একটি মেসেজ পাঠান বলে জানান রাজু। সেখানে লেখা ছিল, ‘তুমি চিন্তা করিও না, আমি আমার এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছি। সেখানে থেকে কাল বাসায় চলে যাব।’
রাজুর দাবি, পরদিন সকাল ৬টার দিকে আবার ভিডিও কলে তাজমীনের সঙ্গে কথা হয়। তখনও তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। এ সময় অটোরিকশার চালক জানতে চান, তাজমীন কার সঙ্গে কথা বলছেন। তাজমীন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানানোর পর কল কেটে দেন।
এরপর আর তাজমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন রাজু। পরদিন এক বন্ধুর কাছ থেকে তাজমীনের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
রাজু জানান, তাজমীনের সঙ্গে তার প্রায় ছয় মাসের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল। তাজমীনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিচারও দাবি করেন তিনি।
কলাতলী থেকে আটক রাজু
রোববার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, তাজমীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা রাজু স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ধানখেত থেকে উদ্ধার তাজমীনের মরদেহ
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক সিএনজিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
